সাংবাদিক নির্যাতনে এগিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি! বলি সাংবাদিক কি বলির পাঠা?

ক) সাংবাদিক হচ্ছে দেশ-জাতির বিবেক ও দেশের নিবেদিত দেশপ্রেমিক সন্তান। সারা বিশ্বের দৈনন্দিন খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্য শতভাগ নিবেদিত কলম সৈনিক। আর এই কলম হচ্ছে সাংবাদিকের একটি বড় মারণাস্ত্র। এই অস্ত্র দিয়ে তছনছ করে দেওয়া যায় সকল প্রকার দুর্নীতির আখড়া, মুখোশ খুলে দেওয়া যায় স্বৈরাচারের। সমাজ বিবর্তনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে সাংবাদিক।
বিজ্ঞাপন
সাংবাদিক সুশীল সমাজের বন্ধু এবং অসাধুর জন্য বুক ধড়ফড়ানি। সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম হাতে রুখে দাঁড়ায়। সুশীল সমাজ গঠনে জীবনের পরোয়া না করে সাংবাদিক ছুটে চলে সঠিক খবরের পিছনে। সুন্দর সমাজ গঠনে সাংবাদিক যেমন নিবেদিত, ঠিক তেমনি সুন্দর সমাজ ধ্বংস করতে দুর্নীতিবাজরা মরিয়া। আর এই দুর্নীতিবাজদের রুখতে অবিরাম ছুটে চলে সাংবাদিক। দেশ-জাতির কলঙ্কিত সন্তানরা দেশ ধ্বংস করতে কোমরে গামছা বেঁধে নামে আর সাংবাদিকরা সমাজ গঠনে মৃত্যুকে পরোয়া না করে ছুটে চলে অবিরাম। সমাজে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা আন্তরিকতার সাথে তুলে আনে সাংবাদিকরা। আর অসাধু, দুর্নীতিবাজরা মরিয়া হয়ে ওঠে সমাজ ধ্বংস করতে। অসাধুরা অন্যায় করে তাতে দোষের নয়, সাংবাদিক সত্য ঘটনা তুলে আনলেই সমস্যা। কথায় বলে না, যত দোষ নন্দ ঘোষ। সাংবাদিক তথা কলম সৈনিককে ভয় করে না এমন শয়তান লোক সমাজে নেই বললেই চলে।
খ) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স তখন ১০ বছর তিন মাস। সব ঘটনা আজও চোখের সামনে ভাসে। প্রথম রাজধানী ঘোষণা এবং অস্থায়ী সরকার ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ হবে—খবর ফাঁস হলে শুরু হয় অবিরাম বোমা হামলা, সঙ্গে মেশিনগানের গুলি ছোড়া। এর মধ্যে দেখতে পাই আজব এক ইংরেজ তরুণ ছেলেকে। পিঠে বিশাল ব্যাগ হাতে বড়সড় ক্যামেরা, গলায় ঝুলছে আরেকটি স্টিল ক্যামেরা। ছুটে ছুটে শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। কোনো ভয় নেই, বুকের ভিতর-বাইরে কোনো লোক নেই, সমগ্র শহর ফাঁকা। আমরা কয়েকজন তার পিছে ছুটছি ছবি তোলার দৃশ্য দেখার জন্য। অনেক পরে জেনেছি, ঐ সাংবাদিকের নাম মার্ক টালি। এসেছেন লন্ডন থেকে খবর সংগ্রহ করতে। বিবিসির ঐ সাংবাদিক মার্ক টালি এসেছেন দিল্লি থেকে। জীবনের পরোয়া না করে মার্ক টালি সংগ্রহ করছেন খবর এবং কী যেন একটা মেশিন বের করে ছবি পাঠাচ্ছেন এবং কথা বলছেন। এর নাম সাংবাদিক আর সেই সাংবাদিককে হত্যা করে পৃথিবীর নোংরা লোকেরা। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামির সদস্য তথা রাজাকাররা এ দেশের অনেক সাংবাদিককে হত্যা করেছে নির্দ্বিধায়। সেই ধারা স্বাধীনতা-পরবর্তী কালেও চলমান আছে। অদ্যাবধি প্রায় চল্লিশ জন সাংবাদিককে হত্যা করেছে এ দেশের দেশদ্রোহীরা। বলতে দ্বিধা নেই, সাংবাদিক হত্যা সহ নানাবিধ নির্যাতনে এগিয়ে আছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুর্নীতিবাজ নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের এক সময়ের এমপি ফেনীর জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে খবর ছাপালে তিনি সাংবাদিক টিপু সুলতানকে নির্যাতন করে পঙ্গু করে দেন। জনকণ্ঠের যশোর প্রতিনিধি কাজী শামসুর রহমানকে প্রেসক্লাবের ভিতরে মাথায় গুলি করে হত্যা করে চরমপন্থী খুলনার লিটু।
গ) স্বৈরাচার সরকার শেখ হাসিনার আমলে সত্য ঘটনা প্রকাশ করায় অনেক সাংবাদিককে পিটিয়েছে এবং মামলা দিয়ে জেলে ভরেছে। সাংবাদিকদের শায়েস্তা করতে জনবিরোধী আইন পাশ করে হয়রানি করেছে। সে এক ভয়ংকর কালো দিন গেছে। আমরা ভেবেছিলাম বিএনপি ক্ষমতায় এলে সাংবাদিকরা ফিরে পাবে স্বাধীনতা, কিন্তু না—সে গুড়ে বালি। উল্লেখ্য, বিগত ৯ই জুন ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রামের পটিয়া প্রেসক্লাবে ঢুকে প্রকাশ্যে বেধড়ক পিটিয়েছে সাংবাদিক (যুগান্তর প্রতিনিধি) আবেদুজ্জামান আমীরকে। যুবদল নেতা এসএম রেজা রিপন ২০/৩০ জন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে প্রেসক্লাবে ঢুকে সবাইকে বের করে দিয়ে বেধড়ক পেটায়। উল্লেখ্য, রিপনের নেতৃত্বে পটিয়া শ্রীমাই খাল থেকে অবৈধভাবে বালু লুটের কারণে “১৩৩ কোটি টাকার বাঁধ ঝুঁকিতে” শিরোনামে রিপোর্ট করলে পটিয়া আসনের এমপির নির্দেশে বালু লুট বন্ধ হলে রিপন ক্ষেপে যায় এবং সাংবাদিক আমীরের ওপর হামলা চালায়।
বিজ্ঞাপন
ঘ) বলতে দ্বিধা নেই, দেশ গঠনে হাজারো সাংবাদিক সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু অসাধু লোক পত্রিকার ডিক্লারেশন নিয়ে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। তাদেরকে আমরা বলি হলুদ সাংবাদিক। অতএব পাঠক সমাজের কাছে অনুরোধ, সকলকে হলুদ সাংবাদিক ভাববেন না। সাংবাদিক আছে আপনার জন্য। আমরা আছি সততার ঝান্ডা হাতে।








