Logo

শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৩:৪৭
শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে—এটাই বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি আরও বলেন, বাজেটের এনভেলপ বাড়ানো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন এবং তা বাস্তবায়নই সরকারের লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রথম শর্ত হলো পর্যাপ্ত অর্থায়ন। গত বছর শিক্ষাখাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের প্রায় ১২ শতাংশের আশেপাশে এবং জিডিপির অনুপাতে দেড়-দুই শতাংশের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করেছে। এটি একটি কাঠামোগত সীমা।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতিগত অবস্থান হলো শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে নেওয়া।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪-৬ শতাংশ এবং মোট সরকারি ব্যয়ের ১৫-২০ শতাংশ বরাদ্দ থাকা উচিত। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিন বছরের ধাপে ধাপে ফিসক্যাল আপলিফট পরিকল্পনা নেওয়া হবে। বাজেট বৃদ্ধি শুধু টাকা বাড়ানো নয়, বরং কোথায় খরচ হবে তা নিশ্চিত করা এবং শেখার ফলাফলের সঙ্গে তা সংযুক্ত করাই মূল লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ বছরের শেষে হঠাৎ খরচ হয়ে যায়। এর ফলে বই, নির্মাণকাজ, প্রশিক্ষণ সবই স্কুল ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিল খায় না। গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৩ শতাংশ অব্যবহৃত থেকে গেছে। এটা শুধু অর্থনৈতিক ব্যর্থতা নয়, শিক্ষার্থীর সময় ও সুযোগের ক্ষতি।

বিজ্ঞাপন

ববি হাজ্জাজ জানান, উন্নয়ন বাজেটের খরচ মাইলস্টোনভিত্তিক করা হবে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য পৃথক মাইলস্টোন থাকবে—কোড, টেক্সটবুক, প্রশিক্ষণ, নির্মাণ। ই-জিপি (ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা) ব্যবহার করে আগেভাগে প্রকিউরমেন্ট প্ল্যানিং করা হবে, যাতে ক্লাসরুমে শিক্ষার ঘণ্টা প্রভাবিত না হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান শুধুই বই পড়া নয়, শিক্ষার্থীর মর্যাদা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিও জরুরি। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, ভাষা ল্যাব, ডিজিটাল কন্টেন্ট ও মূল্যায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মিড-ডে মিল, পরিষ্কার টয়লেট, নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সচেতনতা এবং সাইবার সেফটি বাধ্যতামূলক শিক্ষার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শিক্ষক ট্যাবের মাধ্যমে পাঠ পরিকল্পনা, প্রশ্নব্যাংক, উপস্থিতি এবং শিক্ষণ প্রমাণ আপলোড করা যাবে।

বিজ্ঞাপন

তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক করা হবে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, চীনা, জাপানি ও ফরাসি ভাষা শেখানো হবে, যা শ্রমবাজার ও উচ্চশিক্ষায় উপযোগী। মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, কোডিং ও রোবটিক্স শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক রূপে দেওয়া হবে, প্রতিটি উপজেলায় রোবটিক্স ও মেকার কর্নার তৈরি হবে।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে। জাতীয় ক্রীড়া নীতি অনুযায়ী স্কুল ক্রীড়া প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে, এবং সপ্তাহে নির্ধারিত স্পোর্টস পিরিয়ড থাকবে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষা খাতের প্রকল্প খরচ হলেও ক্লাস হচ্ছে না এমন সংস্কৃতি ভাঙা হবে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মাসিক পাবলিক ড্যাশবোর্ড থাকবে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে শিক্ষা রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ এবং অভিযোগ ও সেবা মান পর্যবেক্ষণে ট্র্যাকিং নম্বর ভিত্তিক ফিডব্যাক ব্যবস্থা থাকবে।

টাইমলাইন অনুযায়ী প্রথম ধাপে ডায়াগনস্টিক রিভিউ, উন্নয়ন বাজেটের ফেরত যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ এবং পাইলট ডিজাইন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। তৃতীয় ধাপে পরীক্ষা ও মূল্যায়নে বড় টেকনিক্যাল রিফর্ম বাস্তবায়ন হবে, যা সাধারণ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষম করবে।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের এই উদ্যোগ শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD