সেশনজট ঠেকাতে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের সেশনজটমুক্ত রাখতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, পরীক্ষা ও পাঠক্রম এমনভাবে সমন্বয় করা হবে যাতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত শিক্ষাজীবনে কোনো ধরনের সময়ক্ষেপণ না হয়।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ‘অন গ্রিড সোলার প্রজেক্ট’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষাখাতে কোনো ধরনের অবহেলা বা কার্পণ্য করছে না। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে খুব শিগগিরই বৈঠকে বসা হবে, যেখানে কীভাবে পূর্ণ সিলেবাস শেষ করে সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
আরও পড়ুন: ঈদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে লম্বা ছুটি
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আমরা চাই, একজন শিক্ষার্থী যেন ১০ বছরের স্কুলিং ১০ বছরেই শেষ করতে পারে। কোনো সেশনজট তৈরি না হয় এবং শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না পড়ে—সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পরীক্ষার পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক—সবাই এখন সুন্দর ও সুষ্ঠু পরীক্ষা প্রত্যাশা করেন। জোর করে কাউকে কিছু করানো যায় না। শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হবে। প্রজেক্টভিত্তিক ও বাস্তবধর্মী শিক্ষার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে, তবে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীলভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তরুণ জনগোষ্ঠী ও মানবসম্পদ। এই জনশক্তিকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে যদি দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে জোর দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন প্রয়োজন। এ কারণেই সরকার শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে পারে না। তাই মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা ‘অন গ্রিড সোলার প্রজেক্ট’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের এমন উদ্যোগ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণে এগিয়ে আসবে।








