এসএসসি-এইচএসসি ডিসেম্বরে নয়, জানুয়ারি-এপ্রিলে চায় অংশীজনরা

২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ ডিসেম্বরে পরীক্ষা আয়োজনের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মত, হঠাৎ করে পরীক্ষার সময়সূচি কয়েক মাস এগিয়ে আনা হলে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক ও অভিভাবকরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। সভায় মূল আলোচ্য বিষয় ছিল— ২০২৭ সাল থেকেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়া সম্ভব হবে কি না।
সভায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ অংশীজন জানান, পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এক ধাপে না এনে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা উচিত। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারবে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানান। তারা বলেন, প্রস্তুতির জন্য নির্ধারিত সময় হঠাৎ কমে গেলে মানসিক চাপ বাড়বে এবং অনেক শিক্ষার্থী সিলেবাস শেষ করার সুযোগ পাবে না।
শিক্ষক ও অভিভাবকরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, একসঙ্গে চার মাস সময় এগিয়ে আনলে শিক্ষাব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এজন্য প্রতি বছর ধাপে ধাপে এক মাস করে পরীক্ষা এগিয়ে আনার পরামর্শ দেন তারা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসে ধীরগতির পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক কর্মকর্তা জানান, সভায় জানুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি আয়োজনের প্রস্তাবই সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছে।
বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাব্য সময় ও সময়সূচি সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৭ সাল থেকেই ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে কি না, নাকি আরও সময় নিয়ে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনা হবে— সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না যাতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ঈদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে লম্বা ছুটি
সভায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, আগামী বছর ফেব্রুয়ারির শুরুতে রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে বিবেচনায় জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষা শুরু করা গেলে রোজার আগেই পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তামান্না বেগম বলেন, এসএসসি পরীক্ষা আগে শেষ হলে এইচএসসির পাঠদান ও সিলেবাস সম্পন্ন করার জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যাবে। তবে এইচএসসি পরীক্ষা মার্চ বা এপ্রিলের দিকে হলে শিক্ষার্থীদের জন্য তা বেশি উপযোগী হবে বলে তিনি মত দেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ফরম পূরণের পর পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা প্রয়োজন, যাতে তারা চাপমুক্তভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, প্রতি বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কোন সময়ে আয়োজন করা সবচেয়ে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।








