প্রাথমিক বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী, ট্যালেন্টপুলে ৩২ হাজার ৯৬৫

দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি অর্জন করেছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। মোট বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৮৯২ জন ছাত্র এবং ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন ছাত্রী।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, মেধার স্বীকৃতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
তিনি জানান, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী সারাদেশে মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ট্যালেন্টপুল এবং ৪৯ হাজার ৫০০টি সাধারণ বৃত্তি নির্ধারণ করা হয়। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নীতিমালা অনুযায়ী ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।
অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৩৯ হাজার ৬০০টি বৃত্তি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ইউনিটে দুইজন ছাত্র, দুইজন ছাত্রী এবং একজন মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ সাধারণ বৃত্তি সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এবারের পরীক্ষায় দেশের মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি।
বিজ্ঞাপন
পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন।
নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন, যা মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। সরকারি বিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণের হার ছিল ৬২ দশমিক ১ শতাংশ, আর বেসরকারি বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ছিল ৮৪ দশমিক ১৬ শতাংশ।
উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন ছাত্র এবং ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন ছাত্রী ছিল। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেও ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি ছিল।
বিজ্ঞাপন
বৃত্তিপ্রাপ্তদের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ট্যালেন্টপুলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে মোট ৪৬ হাজার ২৮১ জন। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৯ হাজার ৮৬১ জন।
ফল প্রকাশের পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, অনলাইনে ফলাফল আপলোডের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরে অধিদপ্তরের সার্ভারে ধাপে ধাপে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। পুরো ফলাফল ওয়েবসাইটে দৃশ্যমান হতে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং প্রায় ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বৃত্তি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে এ ধরনের মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।








