Logo

প্রকাশের আগেই প্রাথমিক বৃত্তির ফল ভাইরাল, যা বলছে অধিদপ্তর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জুলাই, ২০২৬, ১৪:২২
প্রকাশের আগেই প্রাথমিক বৃত্তির ফল ভাইরাল, যা বলছে অধিদপ্তর
ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জেলার ফলাফলের খণ্ডিত তালিকা ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত দিনে ফল প্রকাশ না হলেও ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফলাফলের পিডিএফ ও ছবি ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই সেটিকে চূড়ান্ত ফল হিসেবে ধরে শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব তথ্যকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কারিগরি জটিলতার কারণে ফল প্রকাশ স্থগিত করা হয়। অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে, সম্ভাব্য ১২ জুলাই ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ফল প্রকাশ স্থগিত থাকলেও এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক ফলাফলের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষক ও অভিভাবক তাদের শিক্ষার্থী বা সন্তান বৃত্তি পেয়েছে দাবি করে পোস্ট দেন। কেউ কেউ অভিনন্দন জানান, আবার কোথাও মিষ্টি বিতরণের খবরও সামনে আসে। ফলে প্রকৃত ফলাফল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

একজন সহকারী শিক্ষক নিজের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পাওয়ার দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। একইভাবে একাধিক অভিভাবকও তাদের সন্তান বা স্বজন ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে উল্লেখ করে আনন্দ প্রকাশ করেন। এসব পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই ধরে নেন যে ফলাফল ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিস্টেম অ্যানালিস্ট দিলীপ কুমার সরকার বলেন, নির্ধারিত দিনে কোনো আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কে কী শেয়ার করছেন, সেটি অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয় নয়। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

তবে অধিদপ্তরের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফল প্রকাশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কিছু সময়ের জন্য ওয়েবপোর্টালে ফলাফল আপলোড করা হয়েছিল। ওই সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ফলাফল দেখতে ও ডাউনলোড করতে সক্ষম হন। পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হলেও ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ ফলাফলের কপি অন্যদের কাছে পাঠিয়ে থাকতে পারেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকাকে আনুষ্ঠানিক ফল বলা যাবে না। একই সঙ্গে এটিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে তালিকাটি ভুল। যারা ইতোমধ্যে কোনো ফলাফল দেখেছেন, তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ফলাফল কতটা নির্ভরযোগ্য। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকারি ঘোষণা ছাড়া কোনো ফলাফলকে চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। এতে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হয় এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়। এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং প্রায় ৯০ হাজার বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, কারিগরি জটিলতা দূর করে যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে। তাই অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তালিকার ওপর নির্ভর না করে সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD