Logo

পাবলিক পরীক্ষায় কোন অপরাধে কী শাস্তি, জেনে নিন বিস্তারিত

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ জুলাই, ২০২৬, ১৮:০৮
পাবলিক পরীক্ষায় কোন অপরাধে কী শাস্তি, জেনে নিন বিস্তারিত
ফাইল ছবি

পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ডিজিটাল কারসাজি, প্রক্সি পরীক্ষা, অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে নতুন আইন পাস করেছে জাতীয় সংসদ। মঙ্গলবার সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ২০২৬’ অনুমোদনের মাধ্যমে ১৯৮০ সালের বিদ্যমান আইনে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন আইনের মাধ্যমে অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংঘটিত পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধকে স্পষ্টভাবে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে নতুন বিধান যুক্ত হলেও কয়েকটি অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা আগের তুলনায় কমানো হয়েছে।

আইন পাসের সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় আইনটি যুগোপযোগী করা হয়েছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে শাস্তির মেয়াদ কমানো হয়েছে, তবে সব বিষয় বিবেচনা করেই সংশোধনী আনা হয়েছে।

এর আগে গত ২৮ জুন সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হয়। বিলের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল, পাবলিক পরীক্ষায় সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধকে আইনের আওতায় আনতেই এই সংশোধন প্রয়োজন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্নফাঁস ও অনলাইনে ছড়িয়ে দিলে কী শাস্তি?

নতুন আইনে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র পরীক্ষার আগে নিজের কাছে রাখা, প্রকাশ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার কিংবা বিতরণ করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।\

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

আগের আইনে প্রশ্নফাঁসের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও সংশোধিত আইনে সেই সাজা কমিয়ে পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিজিটাল কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

বিজ্ঞাপন

বর্তমান আইন অনুযায়ী, পরীক্ষার ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, ফলাফল বা উত্তরপত্রে ডিজিটাল পরিবর্তন, তথ্য বিকৃতি কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

এটি ১৯৮০ সালের আইনের অন্যতম বড় সংযোজন, কারণ আগের আইনে ডিজিটাল অপরাধ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধান ছিল না।

পরীক্ষার হলে মোবাইল বা নিষিদ্ধ ডিভাইস নিলেও শাস্তি

বিজ্ঞাপন

নতুন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস—যেমন মোবাইল ফোন, স্মার্ট ডিভাইস বা অন্য প্রযুক্তিপণ্য—সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।

এছাড়া পরীক্ষা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করলেও একই ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

প্রক্সি পরীক্ষা ও সংঘবদ্ধ জালিয়াতির শাস্তি

বিজ্ঞাপন

অন্যের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বা কাউকে দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোও নতুন আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

একইভাবে পরীক্ষায় অসদুপায়ে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সঙ্গে লিখিত বা মৌখিক সমঝোতা, চুক্তি বা পরিকল্পনায় যুক্ত থাকলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।

অবৈধ পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনাও অপরাধ

বিজ্ঞাপন

অনুমোদন ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং জেনেশুনে নিজের ভবন বা স্থাপনা ব্যবহার করতে দেওয়া মালিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এ ধরনের অপরাধের জন্যও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানও আইনের আওতায়

বিজ্ঞাপন

কোনো প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা সেবাদানকারী সংস্থা যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করে অথবা তাদের কর্মীদের যথাযথভাবে তদারকি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

উত্তরপত্রে অযৌক্তিক মূল্যায়ন করলে শাস্তি

শুধু পরীক্ষার্থী নয়, উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্বে থাকা পরীক্ষকরাও এই আইনের আওতায় থাকবেন।

বিজ্ঞাপন

কোনো পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্র অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

আরও পড়ুন

তবে তৃতীয় পরীক্ষকের মূল্যায়নের মাধ্যমে সেই অনিয়ম নিশ্চিত না হলে কাউকে এ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।

তথ্যদাতার পরিচয় থাকবে সুরক্ষিত

নতুন আইনে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য প্রদানকারীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা রাখা হয়েছে।

কোনো ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিলে তার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাকে প্রতিশোধমূলক হয়রানি বা আইনি জটিলতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।

কেউ যদি তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

কেন আনা হলো নতুন আইন?

সরকারের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ তৈরি, ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষা জালিয়াতি এবং প্রক্সি পরীক্ষার মতো অপরাধের ধরন বদলে গেছে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর এসব অপরাধ কার্যকরভাবে দমন এবং পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

এই আইন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত বা নিয়ন্ত্রিত সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD