চট্টগ্রাম বোর্ডের আজকের সব এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

টানা ভারী বর্ষণ, বন্যা এবং সার্বিক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবার (৮ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো আপাতত অনুষ্ঠিত হবে না। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন তারিখ ও সময় পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে একই রাতে পৃথক দুটি নির্দেশনায় প্রথমে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে কক্সবাজার জেলার পরীক্ষাও স্থগিতের ঘোষণা আসে। তবে গভীর রাতের দিকে বৈরী আবহাওয়া এবং বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে বুধবারের নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের জন্য কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চলতি বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর এইচএসসি পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সে কারণে একটি বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত হলেও অন্য বোর্ডগুলোর পরীক্ষার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে।
এদিকে টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতা ও বন্যার কবলে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসতবাড়ি, সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীতে সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। এবারের অতিবর্ষণ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রবল বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও দেয়াল ধসের ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মাইসছড়ি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে জরুরি সেবা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে বিমান ও রেল যোগাযোগেও। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তিনটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে রেললাইনের ওপর পানি জমে যাওয়ায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর স্টেশনে আটকা পড়ে। জানআলীহাট ও ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন এখনও প্রায় দুই ফুট পানির নিচে থাকায় কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ করা হবে বলে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরবর্তী নির্দেশনার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ঘোষণার দিকে নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।








