‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’সহ ৩ বই রাখার নির্দেশনা বাতিল

দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক তিনটি বই সংরক্ষণের আগের নির্দেশনা বাতিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার সন্ধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মন্ত্রণালয় পূর্বে জারি করা নির্দেশনাপত্র বাতিল করেছে। এখন অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, গত মাসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে পঠনের জন্য (তিনটি বইয়ের সমন্বয়ে) ১ সেট বই সংরক্ষণ’ শিরোনামে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছিল। সেখানে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে ওই তিনটি বইয়ের একটি করে সেট সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।
এর আগে গত ৩ জুন পাঠানো নির্দেশনায় দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বইগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে বলা হয়। ওই তিনটি বই হলো— ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। প্রথম দুটি বইয়ের লেখক মাহফুজ উল্লাহ, আর তৃতীয় বইটি রচনা করেছেন তারেক রহমান। তিনটি বইই প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা।
বিজ্ঞাপন
ডিপিইর মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, অধিদপ্তর শুরুতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি পাঠিয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তের পর এখন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনাই অনুসরণ করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনও জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আগের নির্দেশনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে বিষয়টি নিয়ে মত দিয়েছেন শিক্ষা বিশ্লেষকরাও। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর মতে, বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে কেবল একটি রাজনৈতিক ধারার নেতাদের নিয়ে লেখা বই নয়, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে রচিত বই থাকা উচিত। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই সহায়ক পাঠ্য হিসেবে রাখা যেতে পারে, তবে একই সঙ্গে মাওলানা ভাসানী, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, চার জাতীয় নেতা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে নিয়েও বই অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস সম্পর্কে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ধারণা লাভ করবে।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, অতীতেও বিভিন্ন সরকারের আমলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে বই ও অন্যান্য উপকরণ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এসব পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পক্ষপাত ও শিক্ষাঙ্গনে একপাক্ষিক বয়ান প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তুলে সমালোচনাও হয়েছে।








