Logo

ভারী বর্ষণের প্রভাবে বাড়বে নদ-নদীর পানি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ জুলাই, ২০২৬, ২০:৫৬
ভারী বর্ষণের প্রভাবে বাড়বে নদ-নদীর পানি
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী কয়েক দিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রভাবে বিভিন্ন নদ-নদীর পানির সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নদ-নদীর পানিও আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা প্রধান অববাহিকা ও জোনভিত্তিক নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদ-নদীর পানি কমেছে এবং সবগুলোই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় আগামী চার দিন ভারী থেকে অতি ভারী এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী তিন দিন কমে পরবর্তী তিন দিন বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে, আর পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন কমতে পারে। তবে উভয় নদীই বিপৎসীমার নিচে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

সুরমা-কুশিয়ারা (আপার মেঘনা) অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কমলেও কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে সুরমা-কুশিয়ারার পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এ সময় সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদীগুলো সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বেড়েছে, আর ধরলা ও দুধকুমারের পানি কমেছে। তিস্তা বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া স্টেশনে সতর্ক সীমায় রয়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রভাবে নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে এবং কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

আপার করতোয়া-আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা ও ঘাঘট অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় আপার করতোয়ার পানি বেড়েছে, টাঙ্গন ও ঘাঘট স্থিতিশীল রয়েছে এবং আপার আত্রাই ও পুনর্ভবার পানি কমেছে। সব নদীই বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও নদীগুলোর পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী বিভাগের আত্রাই, মহানন্দা ও যমুনেশ্বরী-করতোয়া অববাহিকায় মহানন্দার পানি স্থিতিশীল থাকলেও আত্রাই, যমুনেশ্বরী ও করতোয়ার পানি কমেছে। আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও এসব নদী বিপৎসীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা বিভাগের তুরাগ, টঙ্গীখাল ও ধলেশ্বরীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। বুড়িগঙ্গা ও বালুর পানি কিছুটা কমেছে। আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হলেও নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

ময়মনসিংহ বিভাগের জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভগাই ও কংস অববাহিকায় সোমেশ্বরী ও ভগাইয়ের পানি বেড়েছে, জিঞ্জিরাম স্থিতিশীল এবং কংসের পানি কমেছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বি

বিজ্ঞাপন

খুলনা বিভাগের গড়াই ও মাথাভাঙা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল এবং বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও নদীগুলোর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা অববাহিকায় সারিগোয়াইনের পানি কমলেও যাদুকাটার পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

একইভাবে মনু, ধলাই ও খোয়াই অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিন নদীরই পানি কমেছে। তবে আগামী এক দিন পানি স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী দুই দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানিও ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। আগামী তিন দিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে কক্সবাজার, ফেনী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী অববাহিকাতেও গত ২৪ ঘণ্টায় পানির সমতল বেড়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD