Logo

শরীর কাঁপলেও থামেনি কলম, এইচএসসি পরীক্ষায় অনামিকা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও
৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩
শরীর কাঁপলেও থামেনি কলম, এইচএসসি পরীক্ষায় অনামিকা
ছবি: সংগৃহীত

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্র্য—দুই বাধাকেই পেছনে ফেলে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন কুড়িগ্রামের অনামিকা রায়। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই পরীক্ষার হলে বসেছেন এই অদম্য শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন

অনামিকার জন্মের পাঁচ বছর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তার দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে বেঁকে যায়। ফলে চলাফেরা করতে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। কথা বলতেও অসুবিধা হয়। তবু এসব প্রতিবন্ধকতা তাকে শিক্ষাজীবন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি।

এবার তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশীপুর কলেজের ডিজিটাল টেকনোলজি অ্যান্ড বিজনেস বিভাগ থেকে বোয়াইলভীর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর আগে ২০২৪ সালে গাগলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে জিপিএ-২.৭২ অর্জন করেন। তার ছোট ভাইও শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে জীবনযাপন করছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পরীক্ষাকেন্দ্রে দেখা যায়, পরীক্ষা শুরুর আগেই উপস্থিত হন অনামিকা। খাতায় লিখতে গিয়ে একদিকে তার হাতের কলম চলছিল, অন্যদিকে পুরো শরীর কাঁপছিল। শরীর ঝুঁকিয়ে ধীরে ধীরে উত্তর লিখতে দেখা যায় তাকে।

নাগেশ্বরী উপজেলার গাগলা ইউনিয়নের ব্যাঙের দোলা গ্রামের কৃষক অনিল চন্দ্র ও গৃহিণী কাঞ্চনমালা কাহিনীর মেয়ে অনামিকা। সাত সন্তানের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট। পরিবারের আর্থিক সংকট দীর্ঘদিনের। তিন মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে প্রায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন তার বাবা। বর্তমানে দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

অনিল চন্দ্র বলেন, তাদের ২৪ শতক বসতভিটা ছাড়া কোনো আবাদি জমি নেই। কাজ না থাকলে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। মেয়ের পড়াশোনার প্রবল আগ্রহ থাকলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে সেই স্বপ্ন পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কেউ সহযোগিতা করলে অনামিকা আরও ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

অনামিকা বলেন, তিনি লেখাপড়া শেষ করে শিক্ষক হতে চান। এজন্য সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

কাশীপুর কলেজের প্রভাষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অনামিকা একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। উপযুক্ত পরিবেশ ও সহযোগিতা পেলে সে তার স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হবে।

বিজ্ঞাপন

পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিব ও অধ্যক্ষ আব্দুর রহিমও বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও অনামিকা এসএসসি পাস করেছে এবং এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে সে ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এবার ফুলবাড়ী উপজেলার পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১ হাজার ১০৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ হাজার ৭৪ জন, অনুপস্থিত রয়েছে ৩১ জন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD