Logo

একাদশ ভর্তিতে ঢাকার সেরা কলেজ কোনগুলো?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৪১
একাদশ ভর্তিতে ঢাকার সেরা কলেজ কোনগুলো?
ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কোন কলেজে ভর্তি হওয়া হবে—এ সিদ্ধান্ত এখন অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার নামী ও ভালো ফল করা কলেজগুলোতে ভর্তির আগ্রহ প্রতিবছরই বেশি থাকে।

বিজ্ঞাপন

উচ্চ মাধ্যমিকের দুই বছর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই কলেজ বাছাইয়ের সময় শুধু জিপিএ-৫ কিংবা পাসের হার নয়, শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, যাতায়াত সুবিধা, বিভাগ, আসনসংখ্যা এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনামও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক ফলাফল, একাডেমিক সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ বিবেচনায় রাজধানীর যেসব কলেজ শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের পছন্দের তালিকায় থাকে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির তথ্য তুলে ধরা হলো।

নটর ডেম কলেজ

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত নটর ডেম কলেজ দেশের অন্যতম খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হলি ক্রস মণ্ডলীর পুরোহিতদের পরিচালনায় প্রতিষ্ঠিত এই কলেজ দীর্ঘদিন ধরে ভালো ফলাফল, শৃঙ্খলা ও মানসম্মত শিক্ষার জন্য পরিচিত।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ৩ হাজার ২৫১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়েছিলেন। পরীক্ষায় অংশ নেন ৩ হাজার ২৩৯ জন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ২২৬ জন উত্তীর্ণ হন। পাসের হার দাঁড়ায় ৯৯ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৪৫৪ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ১ হাজার ৯৬৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৩৭৮ জন এবং মানবিক বিভাগের ১০৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ

ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজও রাজধানীর অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিকের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়েও শিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ২ হাজার ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৩১৫ জন পাস করেন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২২৯ জন। এর মধ্যে ৫৩৮ জন পুরুষ ও ৬৯১ জন নারী শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন

মাইলস্টোন কলেজ

উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন কলেজ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে পাঠদানের পাশাপাশি ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের কারণেও কলেজটি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ২ হাজার ৯৮১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেন ২ হাজার ৯৭৬ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৯১ জন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার ৩৭৩ জনের মধ্যে ২ হাজার ৩৭০ জন পাস করেন এবং ৭৪৮ জন জিপিএ-৫ পান। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩০৫ জনই উত্তীর্ণ হন, যাদের মধ্যে ২৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। মানবিক বিভাগে ৩০৩ জনের মধ্যে ৩০১ জন পাস করেন এবং জিপিএ-৫ পান ২০ জন।

ঢাকা কলেজ

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত ঢাকা কলেজ দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। উচ্চ মাধ্যমিকের পাশাপাশি এখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়েও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা কলেজে ১ হাজার ১৩৮ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৩৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। পাস করেন ১ হাজার ১২৭ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৮৫৭ জন।

ঢাকা সিটি কলেজ

ধানমন্ডির কুদরত-ই-খুদা সড়কে অবস্থিত ঢাকা সিটি কলেজ রাজধানীর পরিচিত বেসরকারি কলেজগুলোর একটি। উচ্চ মাধ্যমিকের পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়েও এখানে শিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৩ হাজার ৪৪৮ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। পরীক্ষায় অংশ নেন ৩ হাজার ৪৪১ জন। পাস করেছেন ৩ হাজার ৩৬৯ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৫২ জন।

ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ

যাত্রাবাড়ীতে অবস্থিত ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে। বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদানের পাশাপাশি বিশেষ ক্লাস ও একাডেমিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ৩ হাজার ১৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেন ৩ হাজার ১৭২ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯২০ জন।

বিজ্ঞান বিভাগে ৭৭৭ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১০৭ জন এবং মানবিক বিভাগে ৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দেশের অন্যতম পরিচিত নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মূল ক্যাম্পাস ছাড়াও ধানমন্ডি, আজিমপুর ও বসুন্ধরা এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির শাখা রয়েছে।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ২ হাজার ৪৯৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪৩৪ জন উত্তীর্ণ হন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৮৬ জন।

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

বিজ্ঞাপন

উত্তরায় অবস্থিত রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ রাজধানীর অন্যতম আলোচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা এ প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ফলাফল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের কারণে আলাদা সুনাম রয়েছে।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। মাত্র একজন অকৃতকার্য হয়েছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২১৮ জন।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ

পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে অবস্থিত এই কলেজটি আগে রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরাও এখানে পড়ার সুযোগ পান।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৭৮০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেন ১ হাজার ৭৭৮ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৭৪ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ৭৫০ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ৭৯ জন এবং মানবিকে ৪৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা

ঢাকা সেনানিবাসের জাহাঙ্গীর গেটে অবস্থিত বিএএফ শাহীন কলেজ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। শৃঙ্খলা ও একাডেমিক সাফল্যের কারণে প্রতিষ্ঠানটির বেশ সুনাম রয়েছে।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেন ১ হাজার ৯৯৫ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২ জন।

সরকারি বিজ্ঞান কলেজ

ফার্মগেটে অবস্থিত সরকারি বিজ্ঞান কলেজ রাজধানীর অন্যতম পরিচিত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটিতে মূলত বিজ্ঞান বিভাগে পাঠদান করা হয়।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ৯৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেছেন ৯৮৭ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৮৭ জন, যা পরীক্ষার্থীদের ৬৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ

পিলখানায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজও রাজধানীর পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। আগে এটি বাংলাদেশ রাইফেলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে পরিচিত ছিল।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৮২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেন ১ হাজার ৮০২ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫২৪ জন।

হলি ক্রস কলেজ

তেজগাঁওয়ে অবস্থিত হলি ক্রস কলেজ দেশের অন্যতম পরিচিত নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন বিভাগেই এখানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান করা হয়।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৩০৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেছেন ১ হাজার ৩০৪ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৬০ জন।

এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৩৪ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ১৭৬ জন এবং মানবিক বিভাগে ১৫০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ

মোহাম্মদপুরে অবস্থিত ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ শিক্ষা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের জন্য পরিচিত। তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এখানে পাঠদান করা হয়।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ১৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেছেন ১ হাজার ১৪ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৫১ জন।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

মতিঝিলে অবস্থিত আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীর শিক্ষার্থীদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৬০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৫৭৪ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৮০ জন।

বিজ্ঞান বিভাগে ৬৫৯ জন, মানবিক বিভাগে ৩৪ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৮৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ

ডেমরায় অবস্থিত সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজও ভালো ফলাফলের জন্য পরিচিত। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪২৩ জন শিক্ষার্থী।

শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ

ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত মেয়েদের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের জন্য পরিচিত। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেন ১ হাজার ২৭৯ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৭৭ জন।

সেইন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়

১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সেইন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ঢাকার পুরোনো ও পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বর্তমানে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাঠদান করা হয়।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ৭১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেছেন ৭১০ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৩৯ জন।

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

মিরপুরে অবস্থিত মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ রাজধানীর বড় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি ইংরেজি ভার্সনেও পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সন মিলিয়ে ৩ হাজার ১০৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার জন।

ঢাকা কমার্স কলেজ

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা কমার্স কলেজ মিরপুরে অবস্থিত। ব্যবসায় শিক্ষার জন্য দীর্ঘদিনের পরিচিতি থাকলেও বর্তমানে বিজ্ঞান বিভাগেও পাঠদান করা হয়।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ২ হাজার ৯২৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেন ২ হাজার ৮৫৪ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫৬ জন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত কলেজ র‍্যাংকিংয়েও ঢাকা কমার্স কলেজ জাতীয় পর্যায়ে সেরা বেসরকারি কলেজ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল।

লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ

মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় অবস্থিত লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ রয়েছে। ২০২৪ সালের পরীক্ষায় ৬০৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেন ৫৯৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১১৪ জন।

সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ

লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্যাথলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ইতিহাসের পাশাপাশি একাডেমিক ফলাফলের জন্যও পরিচিত।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ৩৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাস করেন ৩৬৬ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪৫ জন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিংয়ে অবস্থান

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত কলেজ র‍্যাংকিং ছিল ২০১৮ সালের। ওই র‍্যাংকিংয়ের ফলাফল ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশ করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে সেরা সরকারি কলেজ হিসেবে রাজশাহী কলেজ এবং সেরা বেসরকারি কলেজ হিসেবে ঢাকা কমার্স কলেজের নাম উঠে আসে।

এ ছাড়া ঢাকা অঞ্চলের সেরা কলেজগুলোর তালিকায় ঢাকা কমার্স কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, সরকারি সা’দত কলেজ, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, সরকারি তোলারাম কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের নাম রয়েছে।

তবে পুরোনো র‍্যাংকিংকে বর্তমান অবস্থার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন ‘বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ র‍্যাংকিং ২০২৫’ কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হলেও নতুন র‍্যাংকিংয়ের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।

কলেজ বাছাইয়ে যেসব বিষয় দেখবেন

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময় শুধু কোন কলেজে বেশি জিপিএ-৫ হয়েছে, সেটি দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। শিক্ষার্থীর নিজের এসএসসি ফলাফল, পছন্দের বিভাগ, কলেজের আসনসংখ্যা, ভর্তি প্রতিযোগিতা, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং পারিবারিক বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

একই সঙ্গে কলেজের নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পরিবেশ, শৃঙ্খলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির সুযোগও দেখা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একটি নামী কলেজে ভর্তি হওয়াই সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। শিক্ষার্থীর নিজের আগ্রহ, অধ্যবসায়, মানসিক প্রস্তুতি এবং পছন্দের বিষয়ের সঙ্গে কলেজের পরিবেশ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD