Logo

দেশজুড়ে হামের বিস্তার, হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:২৪
দেশজুড়ে হামের বিস্তার, হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপ
ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম, যা নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে জনস্বাস্থ্য খাতে। প্রায় নির্মূলের পথে থাকা এই ভাইরাসজনিত রোগের আকস্মিক পুনরুত্থানে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলে শয্যা সংকট, আইসোলেশন সুবিধার ঘাটতি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের শুরুতে সীমিত পরিসরে কিছু এলাকায়, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শিবির ও নির্দিষ্ট কিছু বস্তিতে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হলেও তা বড় আকারে আলোচনায় আসে রাজশাহী অঞ্চলে একাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই সব মৃত্যুর সবকটিই সরাসরি হামের কারণে হয়নি, তবুও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ দিনে সারাদেশে অন্তত ৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বেশ চাপে পড়েছে, কারণ হামের এই পুনরুত্থান অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ছিল। পরিস্থিতির আকস্মিকতাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা আগামী ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়ার কথা। পাশাপাশি টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর একটি বড় অংশ দিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ থেকে টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত শয্যা এবং সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য ভেন্টিলেটর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পৃথক ‘হাম ওয়ার্ড’ চালুর কাজও চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের নির্দিষ্ট কোনো শতভাগ কার্যকর চিকিৎসা নেই, তাই রোগ প্রতিরোধ এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। আক্রান্ত রোগীদের সম্পূর্ণ আলাদা রাখা বা আইসোলেশন নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বড় শহরের হাসপাতালগুলোর ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে দ্রুত উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। অন্যথায় রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসার পথেই সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এক জায়গায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ তৈরি হলে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আক্রান্ত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয়ভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগী শনাক্ত করতে হবে এবং সুস্থ শিশুদের সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আলাদা আইসোলেটেড আইসিইউ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ আইসিইউতে ভর্তি অন্যান্য রোগীরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়বে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD