Logo

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জুলাই, ২০২৬, ১৬:০৫
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল
ছবি: সংগৃহীত

বন্যাকবলিত দেশের পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম এবং প্রয়োজনীয় জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও অতিরিক্ত মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, বন্যার পানিতে একটি হাসপাতালের নিচতলা প্লাবিত হলে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রাতেই চিকিৎসা সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ১১ জেলার সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বন্যাকবলিত জেলা হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাপে কাটার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কায় আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে ওঝার কাছে না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বন্যার প্রথম রাতে পাঁচজন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে এবং সবাই সুস্থ রয়েছেন।

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সবাই সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল মজুত রাখা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে। ফলে অ্যান্টিভেনমের কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও জানান, বন্যা-পরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ওআরএস, স্যালাইন, ওষুধ এবং বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের দ্রুত উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও থাকবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩ এবং স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের পরিস্থিতিও কেন্দ্রীয়ভাবে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটাই—বন্যার কারণে যেন কোনো মানুষ চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD