Logo

মাদারীপুর হাসপাতালে রোগীর ঢল, মেঝেতেও চলছে শিশুদের চিকিৎসা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুর
১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৭
মাদারীপুর হাসপাতালে রোগীর ঢল, মেঝেতেও চলছে শিশুদের চিকিৎসা
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৪০টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ১৩৩ শিশু। অতিরিক্ত রোগীর চাপে একেকটি শয্যায় দুই থেকে তিন শিশুকে থাকতে হচ্ছে। জায়গার অভাবে অনেক শিশুকে মেঝেতে ফোম ও মাদুর বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। অন্যদিকে, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা, শহর ও গ্রামের রোগীরা চিকিৎসার জন্য এখানে আসায় শিশু ওয়ার্ডে প্রতিনিয়ত রোগীর চাপ বাড়ছে। শয্যা সংকটের কারণে একই বিছানায় একাধিক শিশুকে থাকতে হচ্ছে। পাশাপাশি মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ডের তুলনায় শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। ৪০টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি ১৩৩ শিশুর মধ্যে ৪০ জন হামে আক্রান্ত। শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী থাকায় শিশুদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। ছোট শিশুদের সঙ্গে মায়েদেরও অবস্থান করতে হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।

শয্যা সংকটের পাশাপাশি জনবল ঘাটতিও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালটির কার্যক্রম চলছে মূলত ১০০ শয্যার জন্য অনুমোদিত জনবল দিয়ে।

মাদারীপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলা সদর হাসপাতালে মোট ১৯৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৩৮ জন। শূন্য রয়েছে ৫৯টি পদ। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ৫৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৯ জন, শূন্য ৩৭টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণির ৬৮টি পদের মধ্যে ৬৭টি পদে জনবল রয়েছে, শূন্য একটি। তৃতীয় শ্রেণির ২৮টি পদের মধ্যে কর্মরত ২৩ জন, শূন্য পাঁচটি। চতুর্থ শ্রেণির ৪৫টি পদের মধ্যে কর্মরত ২৯ জন, শূন্য ১৬টি। গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসক পদেই ৩৭টি শূন্য থাকায় জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের স্বজনেরাও দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। মাদারীপুর সদর উপজেলার পাচখোলা গ্রামের কামাল হোসেন বলেন, তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে সিয়ামকে কয়েক দিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডাজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। একই শয্যায় তিন শিশুকে থাকতে হচ্ছে। এতে তাঁদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

কালকিনি উপজেলার খাশেরহাট গ্রামের শিউলি বেগম জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তাঁর তিন মাস বয়সী ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। একই বিছানায় তিন শিশুকে থাকতে হচ্ছে। শিশুদের বয়স কম হওয়ায় মায়েদের কোলে বা পাশে থাকতে হয়। ফলে গাদাগাদি পরিস্থিতিতে তাঁদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মাদারীপুর সদর উপজেলার মহিষেরচর এলাকার জাহিদ হোসেন বলেন, জ্বরে আক্রান্ত এক বছর বয়সী ভাগনি মিমকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। একই শয্যায় দুজনকে থাকতে হচ্ছে। এতে তাঁদেরও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল বলেন, ১০০ শয্যার হাসপাতালের জনবল দিয়ে ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চালাতে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত জনবল থাকলে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হতো।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ৪০টি। অথচ প্রতিদিন গড়ে দেড়শ থেকে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছেন। এতে শিশু, অভিভাবক, চিকিৎসক ও নার্স—সবার ওপর চাপ বাড়ছে। তবে অসুস্থ শিশুদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় না; সবাইকে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালের ২৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা গেলে জনবল ও শয্যা সংকট অনেকটাই কমবে এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD