ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৭৩

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ জন। বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৪ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের প্রথম ২০ দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১৯ জন। মাসের বাকি সময়ে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের উদ্বেগের অবকাশ রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জন মারা গেছেন। মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতিটি মাসেই দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
অক্টোবরের প্রথম ২০ দিনে ১১৯ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিক তুলে ধরছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর বড় একটি অংশ ঘটেছে গত দুই মাসে।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৩৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জনে।
একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৩৪০ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৬৫৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৬০২ জন।
বিজ্ঞাপন
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২২৫ জন, চট্টগ্রামে ১৯৭ জন, খুলনায় ১৫৫ জন, রাজশাহীতে ১১১ জন, ময়মনসিংহে ৪৫ জন, রংপুরে ২৮ জন এবং সিলেটে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা ও বরিশালে রোগী ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।






