Logo

নীরব আক্রমণে তথ্য লুট করে যে ভয়ংকরতম কম্পিউটার ভাইরাস

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:৪৯
নীরব আক্রমণে তথ্য লুট করে যে ভয়ংকরতম কম্পিউটার ভাইরাস
ছবি: সংগৃহীত

কম্পিউটার ভাইরাস বলতেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে হঠাৎ করে সিস্টেম স্লো হয়ে যাওয়া, ফাইল নষ্ট হওয়া কিংবা স্ক্রিনে অস্বাভাবিক কিছু দেখা যাওয়ার চিত্র। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বিপজ্জনক ভাইরাসগুলো এমনই—যেগুলো ব্যবহারকারীকে টেরই পেতে দেয় না যে তার ডিভাইস আক্রান্ত।

বিজ্ঞাপন

এ ধরনের ম্যালওয়্যার সাধারণত ব্যবহারকারীর ডিভাইসে প্রবেশ করে অত্যন্ত চতুর কৌশলে। অনেক সময় এগুলো নিজেকে ‘অ্যান্টিভাইরাস’ বা নিরাপত্তা সফটওয়্যার হিসেবে উপস্থাপন করে। ব্যবহারকারী মনে করেন তিনি ডিভাইসকে সুরক্ষিত করছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি নিজের অজান্তেই ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টল করছেন।

প্রতারণার একটি সাধারণ কৌশল হলো ভুয়া সতর্কবার্তা দেখানো। ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সময় হঠাৎ একটি বিজ্ঞাপন ভেসে উঠতে পারে, যেখানে বলা হয়—ডিভাইসটি ভাইরাসে আক্রান্ত। এরপর একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই লিংকে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীকে এমন একটি ওয়েবসাইটে নেওয়া হয়, যা দেখতে আসল প্রতিষ্ঠানের মতো হলেও বাস্তবে সেটি নকল।

বিজ্ঞাপন

সফটওয়্যারটি ইনস্টল করার সময় ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ‘অ্যাডমিন’ অনুমতি নেওয়া হয়। অনেকেই না পড়ে ‘এন্ড ইউজার লাইসেন্স এগ্রিমেন্ট’-এ সম্মতি দিয়ে দেন। ফলে সফটওয়্যারটি ডিভাইসের গভীরে প্রবেশ করে এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ শুরু করে।

এই ধরনের ম্যালওয়্যার সাধারণত ব্যবহারকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, পাসওয়ার্ড, ছবি ও ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ ডেটা নজরদারিতে রাখে। আশঙ্কার বিষয় হলো, এটি দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থেকেও হঠাৎ সক্রিয় হয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

অনেক সময় এসব সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর আস্থা অর্জনের জন্য কিছু ‘সতর্কতা’ দেখায় বা নির্দিষ্ট সাইটে প্রবেশে বাধা দেয়। এতে ব্যবহারকারীর কাছে সফটওয়্যারটি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। পরে ধীরে ধীরে প্রিমিয়াম সেবার নামে অর্থ দাবি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাপী আলোচিত একটি ভয়ংকর র‍্যানসমওয়্যার হলো WannaCry। এটি ব্যবহারকারীর ফাইল এনক্রিপ্ট করে ফেলে এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারের বিনিময়ে অর্থ দাবি করে। সাধারণত ইমেইলের সংযুক্তি বা সন্দেহজনক ফাইলের মাধ্যমে এটি ডিভাইসে প্রবেশ করে এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের ব্যাকআপ রাখা জরুরি। কেবল কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে ফাইল সংরক্ষণ নিরাপদ নয়; আলাদা স্টোরেজ বা ক্লাউড ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ একবার ফাইল আক্রান্ত হলে তা পুনরুদ্ধার করা অনেক সময় ব্যয়বহুল, এমনকি অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া অচেনা ওয়েবসাইট, সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন বা অজানা উৎস থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড না করার পরামর্শও দিয়েছেন প্রযুক্তিবিদরা। সতর্কতা ও সচেতনতা—এই দুইই পারে ভয়ংকর এই সাইবার হুমকি থেকে ব্যবহারকারীকে সুরক্ষিত রাখতে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD