‘শেষ সতর্কবার্তা’ পেয়ে মাইন অপসারণ থেকে সরে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র : ইরান

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রণালিতে মাইন অপসারণ অভিযান শুরু করতে গেলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী থেকে ‘শেষ সতর্কবার্তা’ পাঠানো হয় বলে দাবি করেছে তেহরান। ওই সতর্কবার্তার পর মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজ অভিযান থেকে সরে দাঁড়ায় বলেও জানিয়েছে ইরানি পক্ষ।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি বাহিনী রেডিও বার্তার মাধ্যমে মার্কিন জাহাজকে সতর্ক করে দিয়ে বলে, “এটাই শেষ সতর্কবার্তা, এটাই শেষ সতর্কবার্তা।” এই বার্তা পাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এর জবাবে মার্কিন জাহাজ থেকে জানানো হয়, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই চলাচল করছে এবং এটি কোনো ধরনের উসকানি নয়। পাশাপাশি তারা নিজেদের সরকারের নির্ধারিত যুদ্ধবিরতির নীতিমালা মেনে চলার কথাও উল্লেখ করে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মাইন অপসারণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি তারা ইতোমধ্যে শুরু করেছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসেন এবং ইউএসএস মাইকেল মর্ফি নামের দুটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আরব সাগরে অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল সমুদ্রপথকে নিরাপদ ও মাইনমুক্ত রাখা।
তবে ইরানের আইআরজিসি নৌবাহিনী এই দাবিকে অস্বীকার করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেবল বেসামরিক জাহাজগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলাচলের অনুমতি পায়। কোনো সামরিক জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিকে ঘিরে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য হিল








