কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব সামলাবে মাইক্রোসফটের এআই সহকারী

কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে আরও কার্যকর ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করতে নতুন একটি এআই সহকারী উন্মোচন করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। ‘স্কাউট’ নামের এই ডিজিটাল সহকারী ব্যবহারকারীর কাজের ধরন, অভ্যাস ও পছন্দ সম্পর্কে ধীরে ধীরে শিখে নিয়ে সময়ের সঙ্গে আরও দক্ষভাবে কাজ করতে পারবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাইক্রোসফটের নতুন এই উদ্যোগ কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ধারণাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে পারে। কারণ স্কাউটকে শুধু একটি চ্যাটবট হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কর্ম-সহকারী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মাইক্রোসফটের মতে, স্কাউট সবসময় সক্রিয় থাকা একটি এআই সহকারী হিসেবে কাজ করবে। ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজ, পছন্দ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এবং ব্যবহারের ধরণ পর্যবেক্ষণ করে এটি ধীরে ধীরে নিজের কার্যকারিতা উন্নত করবে। ফলে সময়ের সঙ্গে স্কাউট কেবল নির্দেশ পালনকারী সফটওয়্যার হিসেবে নয়, বরং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন আগে থেকেই বুঝতে সক্ষম একটি বুদ্ধিমান সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, একই নির্দেশ বারবার দেওয়ার প্রয়োজন কমে যাবে এবং এআইটি ব্যবহারকারীর কর্মপদ্ধতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে।
বিজ্ঞাপন
স্কাউটের অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর ব্যক্তিগতকরণ সুবিধা। ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজেদের এআই সহকারীর জন্য আলাদা নাম নির্ধারণ করতে পারবেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কাজ কীভাবে সম্পন্ন করতে হবে, কোন ধরনের ফলাফল প্রত্যাশিত কিংবা কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে—এসব বিষয়ে নির্দেশনা দিলে স্কাউট তা মনে রাখবে এবং ভবিষ্যতে সেই অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করবে।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, স্কাউট ক্লাউডভিত্তিক প্রযুক্তির ওপর পরিচালিত হবে। তবে এটি শুধু অনলাইন পরিবেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বিজ্ঞাপন
ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং ওয়েব ব্রাউজার—উভয় মাধ্যমেই স্কাউট ব্যবহার করা যাবে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা ই-মেইল, ক্যালেন্ডার, সময়সূচি এবং অন্যান্য ডিজিটাল সেবার সঙ্গে সহজেই এটিকে সংযুক্ত করতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে স্কাউট বিভিন্ন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনায় সহায়তা করবে। বিশেষ করে ব্যস্ত কর্মজীবীদের জন্য এটি সময় ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন এআই সহকারীতে শুরু থেকেই কিছু প্রস্তুত ফিচার যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যালেন্ডার পরিচালনা, মিটিংয়ের সময় নির্ধারণ, আলোচ্যসূচি বা এজেন্ডা তৈরি এবং অন্যান্য অফিস-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজ। ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন দক্ষতা বা ফিচারও এতে যুক্ত করতে পারবেন। ফলে এটি বিভিন্ন পেশা ও প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজ করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই নমনীয়তাই স্কাউটকে প্রচলিত এআই সহকারীদের তুলনায় আলাদা অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, স্কাউট মূলত ওপেনক্লভিত্তিক একটি কাঠামোর ওপর তৈরি করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে এই প্রযুক্তি এআই খাতে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। এই ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে এআই সহকারীকে আরও নমনীয়, দ্রুত এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযোজিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এআই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে নিরাপত্তা ও নীতিমালা মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণে স্কাউটের ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এতে থাকবে একটি ‘পলিসি কনফরম্যান্স সিস্টেম’, যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে এআইটি নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে কাজ করছে কি না। একই সঙ্গে স্কাউটের প্রতিটি কার্যক্রমের বিস্তারিত রেকর্ড বা অডিট ট্রেইল সংরক্ষণ করা হবে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন হলে এআইয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে পারবেন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে স্কাউট সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। প্রাথমিকভাবে এটি মাইক্রোসফটের ‘ফ্রন্টিয়ার’ কর্মসূচির আওতায় সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য চালু করা হয়েছে। এই সেবা ব্যবহার করতে হলে গিটহাব কোপাইলট সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন হবে। ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাইক্রোসফটের বার্ষিক ‘বিল্ড’ ডেভেলপার সম্মেলনে স্কাউট ছাড়াও আরও কয়েকটি নতুন এআই প্রযুক্তি ও সেবা উন্মোচন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। ওপেনএআই, গুগল, অ্যানথ্রপিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন নতুন এআই পণ্য বাজারে আনছে। এই প্রেক্ষাপটে স্কাউটের মাধ্যমে মাইক্রোসফট কর্মক্ষেত্রভিত্তিক এআই সহকারীর বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এআই সহকারীরা শুধু তথ্য অনুসন্ধান বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং মিটিং আয়োজন, কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বের বড় অংশ নিজেরাই সম্পন্ন করতে পারবে।
স্কাউট সেই ভবিষ্যতেরই একটি প্রাথমিক রূপ বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের সময় ও শ্রম সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।








