Logo

গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরানের রাজধানী তেহরান

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৮:০৮
গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরানের রাজধানী তেহরান
ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক ধস এবং মুদ্রার রেকর্ড দরপতনে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা ইরানে বিশাল গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির কারাজ, শিরাজ, ইসফাহানসহ প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের নজিরবিহীন পতনে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ টানা তিন দিন ধরে ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও লাঠিপেটা করছে দেশটির পুলিশ, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।

বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে এসেছেন। বিভিন্ন শহরে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই’ এই স্লোগান শোনা যাচ্ছে, যা সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ির দিকে ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে সরিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী আব্দোনাসের হেম্মাতিকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলার নির্দেশ দিলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখনো পর্যন্ত প্রশমিত হয়নি। 

বিজ্ঞাপন

ইরানের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যেই ফ্লোরিডায় বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং মানুষ মোটেও খুশি নয়। তিনি স্পষ্ট জানান, ইরান যদি পুনরায় পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করে, তবে তিনি ইসরায়েলের পরবর্তী বিমান হামলায় পূর্ণরূপে সমর্থন দেবেন। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘সাহসের’ প্রশংসা করে তাদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত শাহজাদা রেজা পাহলভি এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে অর্থনৈতিক সংকট কাটবে না, আমাদের জয় সুনিশ্চিত। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কোনো বিদেশি আগ্রাসন হলে তার জবাব ‘কঠোর ও অনুতাপজনক’ হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এই বিক্ষোভকে শত্রুর উসকানি হিসেবে বর্ণনা করলেও সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় এবারের আন্দোলন ভিন্ন রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: বিবিসি।

জেবি/এমএল

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD