দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ নয়, ইরানে দ্রুত হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পথে না গিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সীমিত হামলার কৌশল বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়নে নিজের টিমকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। যুদ্ধজাহাজ ও সেনা সদস্যদের এমন অবস্থানে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে ইরানের ভেতরে হামলা চালানো সম্ভব। তবে হামলার ধরন এমনভাবে নির্ধারণ করা হতে পারে যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ সময় ধরে বড় পরিসরের যুদ্ধে জড়াতে না হয়।
খবরে বলা হয়, ইরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণের একটি বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশটির ক্ষমতার কাঠামোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি আরেকটি সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে প্রথমে প্রতীকী বা সীমিত অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে চাপ তৈরি করা এবং পরবর্তীতে তেহরান শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানালে আক্রমণের মাত্রা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আছে।
বিজ্ঞাপন
গত বুধবার ট্রাম্প নিজেই বলেন, ইরানের দিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বড় বহর অগ্রসর হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় না এলে আগের তুলনায় আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে একাধিক শর্ত তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে—পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় দেশে হস্তান্তর, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তেহরান পারমাণবিক ইস্যুতে কিছুটা নমনীয়তা দেখাতে পারে, কিন্তু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের দাবি / ইরানের বদলে ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে ভারত
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, অতীতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়েছিলেন ট্রাম্প, এবং সেই সময়সীমা পেরোনোর পর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এবারও অনুরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, ওমান ও মিসর মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল








