ইরানে হামলা চালাতে ‘উস্কানি’ দিলেন সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইরানে হামলা চালাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উসকানি দিয়েছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে সৌদির এ প্রিন্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলা চালানোর যে হুমকি দিচ্ছেন, তিনি যদি হুমকি অনুযায়ী হামলা না চালান তাহলে ইরানের সরকার আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সৌদি আরব প্রকাশ্যে ইরানে হামলা চালানোর বিরুদ্ধে বলে আসছে। তিন সপ্তাহ আগেও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানে হামলা না চালাতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে ওই সময় হামলা পরিকল্পনা স্থগিত করেন ট্রাম্প। কিন্তু এখন সৌদির প্রতিরক্ষাবমন্ত্রী উল্টো অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি হামলা চালানোর জন্য পক্ষে কথা বলেছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই, একইসঙ্গে অত্যন্ত আস্থাভাজন ও কাছের লোক।
এক্সিওস জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেটে হেগসেথ, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন প্রিন্স খালিদ। ওই বৈঠকের মূল বিষয় ছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা।
এরপর গতকাল শুক্রবার ওয়াশিংটনে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ১৫ জন বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক এবং পাঁচটি ইহুদি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই প্রিন্স খালিদ মন্তব্য করেন, ট্রাম্পের এত হুমকির পর ইরানে এখন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালাতে হবে। নয়ত ইরান সরকার আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে যদি ইরানে হামলা না হয়, তাহলে বিষয়টি ইরানের সরকারকে আরও শক্তিশালী করবে।”
বিজ্ঞাপন
দুটি সূত্র এক্সিওসকে বলেছেন, মার্কিন মন্ত্রীদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠকে তিনি যেসব কথা বলে এসেছেন, গতকাল সেটিরই পুনরাবৃত্তি হয়ত তিনি করেছেন। অর্থাৎ তারা মনে করছেন, ইরানে হামলা চালাতে মার্কিন সরকারকেও সম্মতি দিয়ে এসেছেন সৌদির মন্ত্রী।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন যেহেতু ইরানে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে, তাই সৌদি আরব এখন আর প্রকাশ্যে বিরোধিতা করতে আগ্রহী নয়। কারণ এতে করে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই রিয়াদ অবস্থান নরম করছে বলে মনে করা হচ্ছে।








