Logo

নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে তারেক রহমান: রয়টার্স

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৬
নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে তারেক রহমান: রয়টার্স
ছবি: সংগৃহীত

উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রাপ্ত ফলাফলে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। এ প্রেক্ষাপটে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৭ বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয়ের পথে এগিয়ে আছেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোট ইতোমধ্যে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করেছে বলে দেশীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে তিনিই হতে পারেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

২০০৮ সালে সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তারের পর চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় লন্ডনে অবস্থানকালে দেশের রাজনীতিতে বিএনপি ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে যুবনেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। বর্তমানে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন।

বিজ্ঞাপন

গত বড়দিনে দেশে ফিরে ঢাকায় ব্যাপক সংবর্ধনা পান তারেক রহমান। দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া। তারেক রহমানের বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করেন।

নির্বাচনী অঙ্গীকারে তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের কথা বলেছেন, যাতে কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা না থাকে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারে সহায়তা বৃদ্ধি, তৈরি পোশাকশিল্পের বাইরে খেলনা ও চামড়াশিল্পসহ নতুন খাতে বিনিয়োগ এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে তার ঘোষণায়।

দেশে ফেরার পর সংযত ও শান্ত ভঙ্গিতে নতুন ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সচেষ্ট তিনি। ২০০১–২০০৬ সালে খালেদা জিয়ার শাসনামলে ‘সমান্তরাল ক্ষমতাকেন্দ্র’ পরিচালনার অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তার ভাষায়, প্রতিশোধ নয়—এ মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা দায়ের হয় এবং ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনি এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। ক্ষমতার পালাবদলের পর সব মামলায় তিনি খালাস পান।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দলের ভেতরে তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ়। প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে জোটগত কৌশল নির্ধারণ—সবক্ষেত্রেই তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বংশানুক্রমিক রাজনীতির অংশ হিসেবে পরিচিত হলেও তার দাবি, লক্ষ্য একটাই—গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন। তারেক রহমান বলেছেন, “গণতন্ত্র চর্চা হলেই দেশ এগোবে; আমরা দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।”

জেবি/জেএইচআর
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD