Logo

গাজায় থার্মোবারিক বোমা ব্যবহার, ‘বাষ্পীভূত’ ২,৮৪২ জন

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৩:১৮
গাজায় থার্মোবারিক বোমা ব্যবহার, ‘বাষ্পীভূত’ ২,৮৪২ জন
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ভোরে গাজা সিটির আল-তাবিন স্কুলের ধ্বংসস্তূপে ছেলেকে খুঁজছিলেন ইয়াসমিন মাহানি। পাশে স্বামীর আর্তচিৎকার—তবু সাদের কোনো খোঁজ মিলছিল না।

বিজ্ঞাপন

আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহানি বলেন, “মসজিদে ঢুকে দেখি মাংস আর রক্তের ওপর পা পড়ছে। একের পর এক হাসপাতাল ও মর্গে খুঁজেছি, কিন্তু সাদের কিছুই পাইনি। দাফন করার মতো কোনো অংশও না—এটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর।

মাহানি সেই নারীদের একজন, যাদের প্রিয়জন ইসরায়েলের গাজায় ‘গণহত্যা’ চলাকালে হঠাৎ হারিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আল-জাজিরা আরবির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান দ্য রেস্ট অব দ্য স্টোরিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাজার সিভিল ডিফেন্স এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনির নথি করেছে, যাদেরকে ‘সম্পূর্ণ বাষ্পীভূত’ বলে বিবেচনা করা হয়েছে। তাদের দেহর কোনো অস্তিত্বই আর পাওয়া যায়নি। যা পাওয়া গেছে, তা শুধু রক্তের ছিটেফোঁটা বা মাংসের খুব ক্ষুদ্র অংশ।

বিশেষজ্ঞ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ তাপভিত্তিক ও থার্মোবারিক (ভ্যাকুয়াম বা অ্যারোসল) বোমা নিয়মিতভাবে ব্যবহার করছে, যেগুলো ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৬ হাজার ৩৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি তাপ উৎপন্ন করতে সক্ষম।

ভয়াবহ ফরেনসিক হিসাব

বিজ্ঞাপন

২ হাজার ৮৪২ জন পুরোপুরি বাষ্প হয়ে যাওয়ার বিষয়টি কোনো অনুমান নয়। এটি গাজার সিভিল ডিফেন্সের বাস্তব ফরেনসিক গণনা। সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আল-জাজিরাকে বলেন, আমরা ‘বর্জন পদ্ধতি’ ব্যবহার করেছেন। আমরা লক্ষ্যবস্তু হওয়া বাড়িতে ঢুকে স্পষ্টভাবে জানি যে, হামলার সময় সেখানে কতজন ছিল ও কয়টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, তার তুলনা করি।

যদি কোনো পরিবার আমাদের বলে যে ভেতরে পাঁচজন লোক ছিল এবং আমরা কেবল তিনটি অক্ষত মরদেহ উদ্ধার করি, তাহলে আমরা বাকি দুটিকে ‘বাষ্পীভূত’ বলে গণ্য করি। বাষ্পীভূত তখনই বলি, যখন পুরো অনুসন্ধানে দেয়ালে রক্তের ছিটা বা মাথার ত্বকের মতো ছোট ছোট টুকরো ছাড়া আর কোনো জৈবিক চিহ্ন পাওয়া যায় না।

বিজ্ঞাপন

বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে সন্তান হারানো রফিক বাদরানে তিনি বলেন, আমার চার সন্তানই বাষ্প হয়ে গেল। লক্ষবার খুঁজেছি। কোনো অংশ অবশিষ্ট ছিল না। কোথায় গেল তারা?

তিনি আরও বলেন, গাজায় সংঘটিত ঘটনাগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি আলোচনাগুলো বাস্তবতার তুলনায় অনেক সময় অর্থহীন মনে হয়।

গাজার চলমান পরিস্থিতি ও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/এসডি
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD