যুক্তরাজ্য থেকে টিউলিপকে দেশে ফিরানোর পদক্ষেপ নেবে সরকার

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার যুক্তরাজ্য থেকে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণের আবেদন জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সরকারের ঘনিষ্ঠ এক শীর্ষ সহযোগীর বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেটের এমপি ও সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে ঢাকার একটি জমি অধিগ্রহণ চুক্তি সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য সরকার এখনও এই রায়কে স্বীকৃতি দেয়নি।
বিজ্ঞাপন
মামলায় টিউলিপের সঙ্গে তার খালা, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছেন।
নতুন সরকারে সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আলোচিত হুমায়ুন কবির বলেন, দুর্নীতির মামলাগুলোতে বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে চলবে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না। বিচারই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
তবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় টিউলিপ সিদ্দিককে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না। চুক্তি ছাড়াও তাত্ত্বিকভাবে প্রত্যর্পণ সম্ভব হলেও, লেবার পার্টি এই বিচার প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেছে।
বিজ্ঞাপন
লেবার পার্টি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টিউলিপ ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাননি এবং অভিযোগের বিস্তারিত কখনও তাকে জানানো হয়নি। তাই এই রায়কে আমরা স্বীকৃতি দিতে পারি না।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, নতুন সরকার মামলাগুলো প্রত্যাহার করবে না। বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর আমরা নির্ভরশীল। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি কর্তৃক সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্কিত ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সম্পদ জব্দের পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই, তবে আরও অনেক কিছু করার প্রয়োজন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
টিউলিপ সিদ্দিক এর আগে এই বিচারকে ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই কথিত রায় পূর্বনির্ধারিত এবং অযৌক্তিক। আমি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভ্রান্ত হব না; আমার মনোযোগ সবসময় নির্বাচনি এলাকার জনগণের প্রতি থাকবে।








