Logo

দিল্লির নজরে তারেক রহমান : ‘স্নায়ু পরীক্ষা’ নাকি ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৯:৪৬
দিল্লির নজরে তারেক রহমান : ‘স্নায়ু পরীক্ষা’ নাকি ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব?
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা-এর পতনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দলের নেতা তারেক রহমান-এর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্যকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক কৌশল বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-তে বিশ্লেষক চন্দ্রশেখর শ্রীনিভাসন লিখেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত থাকার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পর তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রথম জনসমাবেশে তিনি মার্কিন অধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের উক্তি ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন।

এবার ভারতের জন্য প্রশ্ন হলো—তারেক রহমানের পরিকল্পনা কতটা ভারত-বান্ধব হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় তার ভূমিকা কী হবে। শ্রীনিভাসন উল্লেখ করেছেন, তার জয়ের খবর ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের নতুন নেতাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, তার সরকার গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করবে।

বিজ্ঞাপন

ভারতের জন্য বিষয়টি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের স্থিতিশীলতা, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য কৌশলগত মিথষ্ক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা—এই তিনটি ফ্যাক্টর ভারতের নজরে রয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান-চীন-বাংলাদেশ জোটের সম্ভাবনা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাবকে সীমিত করতে পারে।

শ্রীনিভাসনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারতের নজর থাকবে— নতুন সরকার কীভাবে সীমান্ত নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। যদিও বাণিজ্যিক সহযোগিতা তুলনামূলকভাবে কম উদ্বেগের বিষয়, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় রাজনৈতিক এবং কৌশলগত দিকগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি, বিএনপির ক্ষমতায় আসার সঙ্গে ভারতের জন্য আরেকটি সুখবর হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভারতের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শ্রীনিভাসনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতের জন্য এখন ধৈর্য ধরার সময়। দেশের নতুন নেতা কতটা বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি গ্রহণ করবেন, তা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। এ মুহূর্তে ভারতের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে কতটা স্থিতিশীল ও কার্যকরী অংশীদার হিসেবে দেখবেন।

সূত্র: এনডিটিভি

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD