২২৮ তালেবান সদস্য নিহতের দাবি পাকিস্তানের

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র সংঘাতে রূপ নিয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, আফগান তালেবানদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযানে অন্তত ২২৮ জন সদস্য নিহত এবং আরও ৩১৪ জন আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ নামের এই অভিযানে তালেবানদের ৭৪টি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড পোস্ট ধ্বংস এবং ১৮ জন যোদ্ধাকে আটক করার দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এরপর পরিস্থিতি সীমান্ত ছাড়িয়ে দুই দেশের অভ্যন্তরেও ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। তবে পাকিস্তান বলছে, তারা শুধুমাত্র সশস্ত্র বিদ্রোহীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং এতে ৮০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে।
এর জবাবে গত বুধবার ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে আফগান বাহিনী। তালেবান সরকার জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। যদিও ইসলামাবাদ এ সংখ্যা নিশ্চিত করেনি, তবে তারা জানিয়েছে তালেবান হামলায় পাকিস্তানে ২৭ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সীমান্ত সংঘর্ষে আরও দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর পর রাতেই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও কান্দাহারে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। হামলার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণা দেন।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে দুই দেশের সীমান্ত এলাকা কার্যত সংঘর্ষমুখর। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কমান্ড পোস্ট ধ্বংসের মাধ্যমে তালেবানদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, তালেবান প্রশাসন বলছে তাদের মাত্র আটজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, যা পাকিস্তানের দাবি করা সংখ্যার তুলনায় অনেক কম।








