খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের সঙ্গে যোগ দিল যারা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আকস্মিক মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খামেনির নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (Axis of Resistance)-এর মিত্রগোষ্ঠীসমূহ একযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধ নেবার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন
লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য যেকোনো মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা মোকাবিলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, খামেনির অনুপস্থিতিতে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা সচল রাখতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সরাসরি তদারকি শুরু করেছে।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এই হত্যাকাণ্ডকে ‘জঘন্য অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে দায়ী করেছে। হামাসের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ইয়েমেন পর্যন্ত এই উত্তেজনার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির হুথি বিদ্রোহীরা সরাসরি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছে, তারা যেকোনো মাত্রার সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত। তারা লোহিত সাগরে পশ্চিমা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। হুথিদের এই অবস্থান স্পষ্ট করে যে খামেনির হত্যার প্রতিশোধ কেবল ইরানের সীমায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর প্রভাব সমুদ্রপথেও প্রভাব ফেলবে।
একই সময়ে, খামেনির উত্তরসূরির প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা উসকে দিয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন খামেনির পুত্র মোজতাবা খামেনি এবং ইরানের প্রভাবশালী সাবেক আইআরজিসি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলি লারিজানি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে ইরান এখন তার নতুন নেতৃত্ব খুঁজতে ব্যস্ত।








