ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের কড়া সমালোচনায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে ক্রমবর্ধমান ও ঝুঁকিপূর্ণ হস্তক্ষেপের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার ইতালির পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলোনির ডানপন্থী সরকার মিত্র দেশগুলোর প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়—বিরোধীদের এমন অভিযোগের মধ্যেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেন।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে তিন কার্গো জাহাজে হামলা
ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে এসেছে। তবে এ ক্ষেত্রে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এই অভিযানের সমালোচনা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও মেলোনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। তার মতে, এমনটি হলে আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে। এতে ইতালি ও ইউরোপও সম্ভাব্য হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ১২তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা হয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে এবং তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
সংসদে আলোচনার সময় মেলোনি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের তুলনা করেন। তার মতে, এসব ঘটনার ফলে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপকে মূল্যায়ন করতে হবে। বিশ্বব্যবস্থায় হুমকি ক্রমেই বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের হামলার শিকার দেশগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহায়তা দিচ্ছে ইতালি। মেলোনি জানান, ওই অঞ্চলে ইতালির হাজারো নাগরিক বসবাস করেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সেখানে ইতালির প্রায় দুই হাজার সেনাও মোতায়েন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: রয়টার্স।








