লুকানো অস্ত্র বের করছে ইরান, যুদ্ধের প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রও

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। টানা সংঘাতের পর অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি থেকে সরে এসে নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ইরান। একই সময়ে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সক্রিয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রও।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে তেহরান। পাশাপাশি মাটির নিচে সংরক্ষিত অস্ত্রও বের করে আনা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের কথা মাথায় রেখে দ্রুত নিজেদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে ইরান, যাতে প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালানো যায়।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজের জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর। হোয়াইট হাউজ সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্টকে সামরিক বিকল্প ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবেন। কয়েক দিনের মধ্যেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, যুদ্ধজাহাজগুলোতে নতুন করে জ্বালানি, খাদ্য ও গোলাবারুদ সরবরাহ করা হচ্ছে। ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সহায়তা দিচ্ছে ‘ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক’ রণতরী।
এর আগে, ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট-এ ভোটাভুটিতে নাকচ হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত আরেকটি বড় সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে। তবে সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা এখন দেখার বিষয়।








