১৯৭১ সালে গণহত্যার বিচারে বাংলাদেশের পাশে ভারত

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে ভারত।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৭ মার্চ) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইট-এর মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল, তা ইতিহাসের এক নির্মম অধ্যায়। পরিকল্পিতভাবে নিরীহ মানুষ হত্যা এবং নারীদের ওপর ব্যাপক যৌন সহিংসতা চালানো হয়েছিল, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
বিজ্ঞাপন
জয়সওয়াল আরও উল্লেখ করেন, ওই সময় প্রাণভয়ে অসংখ্য মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই নৃশংসতা বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলেও পাকিস্তান এখনো পর্যন্ত তাদের দায় স্বীকার করেনি। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে ভারত পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাবে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানটি চলে দীর্ঘ নয় মাস। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এর অবসান ঘটে। এই সময়ে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় দুই লাখ নারী নির্যাতনের শিকার হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা চলছে এবং স্বীকৃতি পাওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, ১৯৭১ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের প্রক্রিয়া বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং সরকার এ বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে।
এদিকে, ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর ও কলঙ্কময় দিন হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।








