Logo

এআইয়ের পরামর্শে মাকে নৃশংসভাবে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৪:২৮
এআইয়ের পরামর্শে মাকে নৃশংসভাবে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মের সহায়তায় নিজের মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করার দায়ে এক কিশোরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ট্রিস্টান রবার্ট (১৮) গত বছরের অক্টোবরে উত্তর ওয়েলসে তার মা অ্যাঞ্জেলা শেলিস (৪৫)কে হত্যা করে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৫ মার্চ) উত্তর ওয়েলসের মোল্ড ক্রাউন কোর্টে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে বলা হয়, ট্রিস্টানকে অন্তত ২২ বছর ৬ মাস কারাগারে থাকতে হবে।

তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে ট্রিস্টান ডিপসিক নামের একটি এআই সার্চ প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিয়েছিল। তিনি এআই-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, হত্যার জন্য হাতুড়ি নাকি ছুরি বেশি কার্যকর। প্রথমে এআই কোনো উত্তর দেয়নি, তবে পরে নিজেকে অপরাধ বিষয়ক লেখক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পর এআই তাকে হাতুড়ি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা এবং হত্যার পর রক্ত ও দাগ পরিষ্কারের উপায় সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ড্রু থমাস জানান, হত্যাকাণ্ডটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল। ট্রিস্টান প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে হামলার প্রস্তুতি নেয় এবং পুরো ঘটনার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার অডিও রেকর্ড করে রাখে।

তদন্তে আরও জানা যায়, ট্রিস্টান অনলাইনে একাধিকবার নারীবিদ্বেষী পোস্ট করেছিল এবং নিজের মানসিক সমস্যার জন্য মাকেই দায়ী করত। রেকর্ড করা অডিওতে হামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ বর্ণনা পাওয়া গেলেও, তার নিষ্ঠুরতার মাত্রা বিবেচনায় তা আদালতে বাজানো হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে ট্রিস্টান প্রথমে নিজ বাড়িতেই মায়ের ওপর হামলা চালায়। রাত প্রায় ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের পর চিকিৎসার কথা বলে মাকে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ব্যাগ থেকে স্লেজহ্যামার বের করে মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রাখে।

বিজ্ঞাপন

পরদিন সকালে পথচারীরা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। পরে ট্রিস্টানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালতে আরও জানা যায়, ট্রিস্টানের অটিজম ও এডিএইচডি থাকায় তার জন্য সহায়তা খুঁজছিলেন মা অ্যাঞ্জেলা শেলিস। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে তিনি এক সমাজকর্মী ও বন্ধুদের জানিয়েছিলেন, তার ছেলে ছুরি ও হাতুড়ি কিনেছে।

বিজ্ঞাপন

নিজের ফোনে লেখা একটি নোটেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে লেখা ছিল: কেন? এগুলো সে কেন কিনেছে? সে কি আমাকে বা নিজেকে আঘাত করতে চায়?

রায় ঘোষণার সময় আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের বড় ছেলে ইথান রবার্ট। তিনি বলেন,মা ট্রিস্টানকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন।

এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহিংস বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি ঠেকাতে এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা কাঠামো আরও কঠোর করা জরুরি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD