হরমুজ প্রণালিতে ডলার নয়, টোল ব্যবস্থায় চলবে ইউয়ান ও ক্রিপ্টো

দীর্ঘ ৩৮ দিনের উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাতের পর অবশেষে ১৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই বিরতির মধ্যেই বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন টোল আরোপ করেছে তেহরান, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন গণমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতির সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া সব বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্ধারিত টোল পরিশোধ করতে হবে। এই নির্দেশনা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। টোল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রচলিত ডলারের পরিবর্তে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনের মুদ্রা ইউয়ান ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার হারে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বিশালাকৃতির তেলবাহী সুপার ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে গিয়ে কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হতে পারে। তবে খালি জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো টোল প্রযোজ্য হবে না।
বিজ্ঞাপন
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজ চলাচলের আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে ইমেইলের মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষকে আগাম তথ্য জানাতে হবে এবং অনুমোদন নিতে হবে। টোল অবশ্যই প্রণালিতে প্রবেশের আগেই পরিশোধ করতে হবে। একইসঙ্গে জাহাজগুলোকে ইরানের উপকূল ঘেঁষে নির্দিষ্ট পথ—কাশেম ও লারেক দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী জলসীমা—ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
ইরান আরও জানিয়েছে, তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজ তুলনামূলকভাবে সহজে প্রণালি পার হতে পারবে। তবে যেসব দেশকে শত্রুভাবাপন্ন মনে করা হয়, তাদের জাহাজ চলাচলে বিলম্ব বা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে ডলারে লেনদেন সীমিত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ইউয়ানকে বেছে নিয়েছে ইরান। এতে পশ্চিমা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি ক্রিপ্টো লেনদেন তুলনামূলকভাবে গোপন থাকায় তা ইরানের জন্য সুবিধাজনক।
ইরানের আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ইউয়ানে টোল আদায় শুরু হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।








