Logo

কলকাতায় গুদামঘর ধস, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ জুন, ২০২৬, ১৯:৩৭
কলকাতায় গুদামঘর ধস, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি গুদামঘরের ছাদ ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে পৌঁছেছে। বুধবার (২৪ জুন) ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবারও ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। উদ্ধারকাজে ভারতীয় সেনাবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন।

ঘটনার তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শম্ভু বেহারা, সুপারভাইজার সৈয়দ মোহাম্মদ গুলজার, শ্রমিক সরবরাহকারী মোহাম্মদ আতাউল এবং সুভাষ চৌধুরী। এছাড়া ঠিকাদার মোহাম্মদ আসগরের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজে নামেন, পরে এনডিআরএফ মোতায়েন করা হয়।

বিধানসভায় তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন রাজ্য সরকারের সময় ভবনটির নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছিল। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্মাণ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং দায় প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি এবং আহতদের পরিবারকে ১ লাখ রুপি করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

এদিকে দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের কৃষ্ণা চৌধুরী ও জগদ্দলের পাপ্পু রজক রয়েছেন। নিহতদের স্বজনরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD