Logo

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কলম্বিয়ায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৪৭
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কলম্বিয়ায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কলম্বিয়ায় মৃতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিহতদের স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১২ আগস্ট) সরকার জানায়, রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে সরকারি ভবন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত কলম্বিয়ার দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

গত সোমবার কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। গত এক শতাব্দীতে দেশটিতে আঘাত হানা ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটিকে অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এতে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টির বেশি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।

সরকারি হিসাবে ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ২ হাজার ৫৯৫ জন। তবে বেসরকারিভাবে পরিচালিত একটি তথ্যভান্ডারে আহতের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দুর্যোগের তৃতীয় দিন শুরু হওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খুঁজে বের করতে উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর মতে, কোনো ভবন ধসে পড়ার পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে পানি ও খাবার পাওয়া গেলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা কেউ আরও দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে কালি, পেরেইরা, মানিজালেস ও কুইবদো রয়েছে। এসব এলাকায় উদ্ধারকারীরা রাতভর অভিযান চালিয়েছেন। পেরেইরা ও কালিতে ক্রেন, প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকেরাও হাতে করে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধারে সহযোগিতা করছেন।

কালি শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। বহু বাড়িঘর ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দমকলকর্মীদের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে কোদাল, বেলচা এমনকি খালি হাতেও ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাতেও। কালি শহরের হসপিটাল ইউনিভার্সিটারিও দেল ভ্যায়ের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসকদের রোগীদের পার্কিং এলাকায় সরিয়ে নিতে হয়েছে। কয়েকজন রোগীকে হাসপাতালের বাইরেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্থানীয় মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে পৌঁছেছেন। রক্তদান কেন্দ্রগুলোর সামনেও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েল্লা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি যেসব পরিবার ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারিয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: আল জাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD