Logo

২৩ বছর পর ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫
২৩ বছর পর ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৩ বছর পর ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটি থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে ইরাক সরকার। ১ অক্টোবর থেকে ইরাকে আর কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকবে না বলেও জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক অভিযানের সমাপ্তির প্রেক্ষাপটে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহার

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এই সময়সীমাকে নির্ধারিত ও চূড়ান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে বলা হয়, ১ অক্টোবর ইরাকের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হবে। ওই দিন থেকে দেশটির মাটিতে কোনো বিদেশি সেনা থাকবে না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার ভিত্তিতে সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফরের পর সিদ্ধান্ত

বিজ্ঞাপন

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন সফর করেন। ওই সফরের সময় জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়।

ইরাক সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে দুই দেশ পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে। সামরিক উপস্থিতির পরিবর্তে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন অভিযান

বিজ্ঞাপন

ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির শুরু ২০০৩ সালে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে ওই বছরের ১৯ মার্চ ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

অভিযান শুরুর প্রায় নয় মাস পর সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার হন। পরে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর পর মার্কিন বাহিনীর ইরাক ছাড়ার পরিকল্পনা থাকলেও দেশটিতে নতুন করে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান পরিস্থিতি বদলে দেয়।

আইএসের উত্থানে বদলে যায় পরিকল্পনা

বিজ্ঞাপন

সাদ্দামের পতনের পরবর্তী সময়ে ইরাকে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থান ঘটে। জঙ্গিগোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরাকে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে।

আইএসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক কার্যক্রমে মার্কিন বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে বর্তমানে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো মোকাবিলায় যথেষ্ট সক্ষম বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

যা বলছে পেন্টাগন

বিজ্ঞাপন

ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক ও জোটের অংশীদাররা আইএসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে ইরাকে থাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো মোকাবিলায় ইরাকি সেনাবাহিনী যথেষ্ট সক্ষম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ইরাকে বর্তমানে ঠিক কতজন মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, সে সংখ্যা প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।

বিজ্ঞাপন

২৩ বছর ধরে চলা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ইরাকের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেনা প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক সম্পর্ক সামরিক সহযোগিতা থেকে আরও বেশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যাবে বলে ইরাকি সরকারের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD