যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ায় মহড়ার ঘোষণার পরই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়ার ঘোষণার মধ্যেই জাপান সাগরের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল পিয়ংইয়ং। সিউল ও টোকিওর দাবি, আসন্ন যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
বিজ্ঞাপন
আগামী ১৭ আগস্ট থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই বুধবার সকালে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটল।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। উৎক্ষেপণের পর নজরদারি ও সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য বিনিময় করছে সিউল।
বিজ্ঞাপন
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ইতোমধ্যে সাগরে পতিত হয়েছে। তবে এর বেশি কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়া-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লিম ইউল-চুল বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া কোনো প্রতিক্রিয়া ছাড়া যেতে দেয়নি উত্তর কোরিয়া। এবারের উৎক্ষেপণের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং বোঝাতে চেয়েছে, আসন্ন মহড়ার ওপর তারা কঠোর নজর রাখছে এবং প্রয়োজন হলে উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
শুরু হচ্ছে ১১ দিনের মহড়া
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক প্রশিক্ষণ ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ১১ দিন চলবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আগের বছরগুলোর মতো এবারও বড় পরিসরে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনা অংশ নেবে।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই যৌথ মহড়ার বিরোধিতা করে আসছে। দেশটির দাবি, এসব মহড়া মূলত আগ্রাসনের প্রস্তুতি। মহড়ার প্রতিবাদে অতীতে একাধিকবার অস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পাশাপাশি কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিজ্ঞাপন
তবে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, তাদের যৌথ সামরিক মহড়া আত্মরক্ষামূলক প্রস্তুতির অংশ।
সূত্র: রয়টার্স








