Logo

মার্কিন অবরোধে থমকে গেছে ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্র

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৩৮
মার্কিন অবরোধে থমকে গেছে ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্র
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপে অবস্থিত দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

বিজ্ঞাপন

ইরান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির খনিগুলোতে কমপক্ষে ২০৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল মজুতের প্রায় ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। ভেনেজুয়েলা ও সৌদি আরবের পর ইরান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল মজুতকারী দেশ। দেশটির অর্থনীতি অনেকাংশে তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে যায়।

পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে ২৬ কিলোমিটার এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ৫ বর্গমাইল আয়তনের খার্গ দ্বীপকে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের ‘প্রাণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাসের চালান এই দ্বীপ থেকেই বহির্বিশ্বে পাঠানো হয়। কৌশলগত দিক থেকেও দ্বীপটির গুরুত্ব অনেক।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মূলত খার্গ দ্বীপের ডিপো বা সংরক্ষণাগারগুলো থেকেই বর্হিবিশ্বে যায় ইরানের তেল ও তরল জ্বালানি গ্যাস। খনি থেকে তেল উত্তোলন এবং গ্যাস খনিগুলো থেকে সংগ্রহীত গ্যাস তরলীকৃত করার পর ইরানের বন্দরগুলো থেকে সেই তেল ও তরলীকৃত গ্যাস প্রথমে যায় ইরানের বন্দরগুলোতে। তারপর সেখান থেকে এই তেল ও তরলীকৃত গ্যাস মজুত করা হয় খার্গ দ্বীপের ডিপো বা টার্মিনালগুলোতে। সেখান থেকে তেল ও গ্যাস বৈশ্বিক বাজারে নিয়ে যায় ইরানি ট্যাংকারগুলো।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তকরাষ্ট্র ইরানে অভিযান শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ জারি করে তেহরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রও।

তারপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভিত্তিতে গত ১৭ জুন ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ থেকে অবরোধ তুলে নেয় ইরান। ইরানের বন্দরগুলো থেকেও প্রহরা তুলে নেয় মার্কিন নৌবাহিনী।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু ১৩ জুলাই ইসলামাবাদ চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় ইরান এবং হরমুজ প্রণালিতে ফের অবরোধ জারি করে। একই সময়ে ইরানের বন্দরগুলোতে ফের পাল্টা অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্রও।

আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে তেল ও গ্যাসের উত্তোলন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে ইরান। ফলে খার্গ দ্বীপের টার্মিনালগুলোতেও নতুন কোনো পণ্য চালান আসছে না।

খার্গ দ্বিপে তেল ও গ্যাসের ৩টি বড় টার্মিনাল আছে ইরানের। উইন্ডওয়ার্ডের কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, তাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, টানা ২২ দিন ধরে খার্গ দ্বীপের ৩ টার্মিনালের কোনোটিতে নতুন চালান আসেনি।

বিজ্ঞাপন

ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে তেল-গ্যাসের চালান না আসায় রপ্তানি চালনও থেমে আছে। গত ৩১ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত খার্গ দ্বীপ থেকে নতুন কোনো রপ্তানি চালান যায়নি এবং দ্বীপের বন্দরে বর্তমানে ১৭টি ইরানি ট্যাংকার নোঙ্গর করা অবস্থায় আছে।

১৩ জুলাই ইরান ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর প্রথম দিকে অবশ্য ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ খানিকটা শিথিল ছিল, ফলে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রহরা ফাঁকি দিয়ে ইরান তেলের রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পেরেছিল। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোও রপ্তানির এই অব্যাহত অবস্থাকে ‘সাফল্য’ বলে ‍উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিল।

তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইরানের ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ আরও কঠোর হয়েছে। ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, গত ১৪ দিনে একটি জাহাজও ইরানের কোনো বন্দর থেকে খার্গ দ্বীপে যেতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

সূত্র : সিএনএন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD