যুদ্ধের অবসান চায় কিয়েভ, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান চায় কিয়েভ। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধ শেষ করতে কিয়েভ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি জানান জেলেনস্কি। এর আগে ইউক্রেন ও রাশিয়া—দুই দেশই জানিয়েছিল, মার্কিন আলোচকেরা শিগগির তাদের দেশে সফর করবেন। রাতের ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা মার্কিন পক্ষকে আমাদের প্রস্তাবগুলো জানিয়েছি।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো হলে মস্কো যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে সংঘাতের অবসানের পথে এগোতে বাধ্য হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রস্তাবের বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি জেলেনস্কি।
বিজ্ঞাপন
২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ বেশ কিছুদিন ধরেই কার্যত স্থবির। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সর্বশেষ জানুয়ারিতে মস্কো সফর করেছেন। তবে এখনো কিয়েভ সফর করেননি তারা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে ইউক্রেন একাধিকবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। রাশিয়াও যুদ্ধের অবসান চায় বলে দাবি করেছে। তবে মস্কোর শর্ত হলো, ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চল পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে এবং সংঘাতের ‘মূল কারণগুলোর’ সমাধান করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, আগামী মাসের সংসদীয় নির্বাচনকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে রাশিয়া নতুন করে বড় আকারের সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তারা শরতে সংসদীয় নির্বাচনের ঠিক পরেই সৈন্য সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে তারা এমন একটি ধারণা তৈরি করতে চায় যে রুশরা দৃশ্যত যুদ্ধকে সমর্থন করছে।’
তবে মস্কোর কর্মকর্তারা এর আগে নতুন করে সেনা সমাবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা অস্বীকার করেছেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, দীর্ঘ চার বছর আটক থাকার পর সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা রবার্ট গিলম্যানকে মুক্তি দিয়েছে রাশিয়া। ট্রাম্পের দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মানবিক কারণে ৩২ বছর বয়সী গিলম্যানকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছেন। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন কোনো বন্দিকে মুক্তি দেয়নি বলেও জানান তিনি।
সূত্র: আল জাজিরা








