Logo

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের নতুন অবস্থান জানাল দিল্লি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ আগস্ট, ২০২৬, ২০:০৫
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের নতুন অবস্থান জানাল দিল্লি
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পাওয়ার পর বিষয়টি ভারতের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ নিয়েও ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। দেশটির প্রচলিত ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যে তাৎক্ষণিকভাবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। বরং প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনাও চলছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি নতুন করে সামনে আসে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের পর। সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের প্রথম বৈঠক।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টিও উঠে আসে।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতের হাইকমিশনারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ আশা করছে, এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ওসমান হাদির বিষয়টি একটি আইনি বিষয় এবং এ নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। ফলে তদন্তাধীন মামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে বিষয়টিকে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে ভারত।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার মামলার নথি এবং হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তসংক্রান্ত সব নথি ভারত সরকারের কাছে পাঠিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নও সংবাদ সম্মেলনে করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো নথি পাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক জানতে চান, দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন—ভারতও কি এমনটাই মনে করে?

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জবাবে ভারতের মুখপাত্র জানান, ভারতের হাইকমিশনার এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়। একই সঙ্গে সম্মেলনের আগে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ফেব্রুয়ারিতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্যও পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দুই আমন্ত্রণের বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের সর্বশেষ অবস্থান হলো—বিষয়টি দেশটির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনাধীন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হলেও ভারত এখনো শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD