শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের মামলায় পিছিয়ে গেল সাক্ষ্যগ্রহণ

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ এক দিন পিছিয়েছে। এক সাক্ষী অসুস্থ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর একক বেঞ্চের বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।
এদিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। তবে সাক্ষী অসুস্থ থাকায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে আবেদন জানান।
পরে আদালত প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম এক দিন পিছিয়ে বুধবার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
বিজ্ঞাপন
ষষ্ঠ সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন
এর আগে গত ২২ জুলাই মামলার ষষ্ঠ সাক্ষী হেফাজতে ইসলামের কর্মী তাজুল ইসলাম সুমনের জেরা শেষ হয়। এর আগে ১৮ জুন ট্রাইব্যুনালে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছিল।
জবানবন্দিতে তাজুল ইসলাম সুমন জেআইসিতে কথিত গুম ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ আট বছর কারাবন্দি থাকার সময়ের নানা ঘটনা তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি দাবি করেন, হেফাজতে ইসলামের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তাকে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ সময় আটক রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।
তার সাক্ষ্য মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি
বিজ্ঞাপন
এই মামলায় মোট ১৩ আসামির মধ্যে তিনজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গ্রেপ্তার তিন আসামি হলেন— ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
তাদের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজন সাবেক ডিজি
মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন সময়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর বা ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তারা হলেন— লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
বিজ্ঞাপন
মামলার অভিযোগে তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
অন্য আসামিদের মধ্যে যারা রয়েছেন
মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক। এ ছাড়া ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হকও এ মামলার আসামি। ফলে মোট ১৩ আসামির মধ্যে তিনজন কারাগারে এবং ১০ জন পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরুর আদেশ
২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ আমলে নেন। এরপর একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন এবং মামলার বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরার মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
বিজ্ঞাপন
সাক্ষী অসুস্থ থাকায় মঙ্গলবারের নির্ধারিত কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পর বুধবার (১২ আগস্ট) আবারও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।








