Logo

জুলাই আন্দোলনে পলককে ইন্টারনেট ধীরগতি করার নির্দেশ কাদেরের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৩
জুলাই আন্দোলনে পলককে ইন্টারনেট ধীরগতি করার নির্দেশ কাদেরের
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেটের গতি কমানোর বিষয়ে ওবায়দুল কাদের ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের কথোপকথনের একটি ফোন রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। রবিবার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলার যুক্তিতর্ক চলাকালে এই রেকর্ড দাখিল করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রসিকিউশনের দাবি, ওই ফোনালাপ জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ট্রাইব্যুনালে তৃতীয় দিনের যুক্তিতর্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সুলতান মাহমুদ ও সহিদুল ইসলাম সরদার। ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত রয়েছেন।

ফোনালাপে কী উঠে এসেছে

দাখিল করা রেকর্ডের বর্ণনা অনুযায়ী, কথোপকথনের এক পর্যায়ে ওবায়দুল কাদের ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। জবাবে জুনাইদ আহমেদ পলক এ বিষয়ে শেখ হাসিনার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। এরপর কাদের অনুমতি নিয়ে বিষয়টি করতে বলেন।

বিজ্ঞাপন

পলক-কাদেরের ফোনালাপের অনুলিপিটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

পলক: ভাই, আসসালামু আলাইকুম। ভাই, আসসালামু আলাইকুম। জি, আসসালামু আলাইকুম ভাই। পলক বলছি।

​কাদের: নেটটা একটু স্লো করে দাও।

বিজ্ঞাপন

​পলক: জি।

​কাদের: ইন্টারনেট।

​পলক: একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই?

বিজ্ঞাপন

​কাদের: নিয়ে নাও।

​পলক: আচ্ছা, ঠিক আছে। জি, আচ্ছা ঠিক আছে।

​কাদের: অনেকে আমাকে বলতেছে তো বিষয়গুলো...

বিজ্ঞাপন

​পলক: হ্যাঁ, একটু ওই যে মানে বলা আছে তো যে উনি না বললে... মানে...

​কাদের: না না, উনাকে জিজ্ঞেস করেই বলবা।

​পলক: আচ্ছা, ঠিক আছে। জি। জি স্যার, জি স্যার। জি, আসসালামু আলাইকুম।

বিজ্ঞাপন

প্রসিকিউশনের বক্তব্য, আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তৎকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল, ফোনালাপটি তার একটি প্রাসঙ্গিক দলিল হতে পারে।

প্রসিকিউশনের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ

ট্রাইব্যুনালে ফোন রেকর্ডটি দাখিল করে প্রসিকিউশন যুক্তি দিয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় যোগাযোগব্যবস্থা ও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে এই কথোপকথন গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

তবে ফোনালাপের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে বলা যায় না। মামলায় উপস্থাপিত অন্যান্য সাক্ষ্য ও প্রমাণের সঙ্গে এই রেকর্ডও বিচারিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

এর আগে কাদের-সাদ্দামের ফোনালাপ দাখিল

এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদের ও তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের একটি ফোনালাপও দাখিল করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়ার বিষয় উঠে এসেছে। এটিকেও মামলার প্রমাণের অংশ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

মামলায় আসামি সাতজন

এই মামলায় মোট সাতজন আসামি রয়েছেন। তাঁরা হলেন— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

বিজ্ঞাপন

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক।

ফোনালাপ ঘিরে নতুন করে আলোচনা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে এর আগেও নানা আলোচনা হয়েছে। এবার কাদের ও পলকের কথোপকথনের রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের ফলে বিষয়টি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রসিকিউশন এখন ওই ফোনালাপসহ অন্যান্য নথি, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের যুক্তি তুলে ধরছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে এসব প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD