সাদ্দামকে হামলার নির্দেশ দেন কাদের, ট্রাইব্যুনালে কল রেকর্ড

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় প্রসিকিউশন একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড উপস্থাপন করেছে। প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মধ্যে হওয়া ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামানলার যুক্তিতর্ক পর্বে এই কল রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রসিকিউশন ওই অডিও রেকর্ডকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে দাখিল করে।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ অন্য আইনজীবীরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ মিনিট ১২ সেকেন্ড দীর্ঘ ওই ফোনালাপটি ২০২৪ সালের ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আদালতে অডিওটি বাজিয়ে শোনানোর সময় দাবি করা হয়, আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, সেখানে আন্দোলনে জামায়াত ও বিএনপির অংশগ্রহণের প্রসঙ্গও উঠে আসে।
প্রসিকিউশন আরও দাবি করে, ওই কথোপকথন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলেছিল এবং আন্দোলন দমনের ঘটনাপ্রবাহ বোঝাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তবে আদালতে উপস্থাপিত এই অডিও রেকর্ডের বিষয়বস্তু প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত প্রমাণের অংশ। মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত ৪ আগস্ট একই মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না; বরং সেগুলো ছিল পরিকল্পিত ও সমন্বিত কর্মকাণ্ডের অংশ।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান আসামি হিসেবে রয়েছেন। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক।
বিজ্ঞাপন
ট্রাইব্যুনালে মামলার যুক্তিতর্ক পর্ব অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনগত যুক্তি এবং উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।








