Logo

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও ‘আয়নাঘরে’ রাখা হয়েছিল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:৪৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও ‘আয়নাঘরে’ রাখা হয়েছিল
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল (টিএফআই সেল), যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, সেখানে আটক রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাবের গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধির রুল ৪৬এ, রোম সংবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারকদের ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ‘আয়নাঘর’ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও বিচারকদের শুধু নথি ও সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর না করে ঘটনাস্থল সরাসরি দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় পাওয়া পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে লিপিবদ্ধ করা হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শনের পর ভবনের ভেতরে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২২টি কক্ষ পাওয়া গেছে বলে জানান আমিনুল ইসলাম। তার ভাষ্য, কয়েকটি কক্ষ এতটাই সংকীর্ণ যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও কঠিন। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষে ব্যক্তিদের হাত ও চোখ বেঁধে দীর্ঘ সময়—দিন, মাস এমনকি বছরের পর বছর—আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, পরে অনেককে বিভিন্ন মামলায় আদালতে হাজির করা হলেও অনেকে আর ফিরে আসেননি। এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের আগস্টের পর কয়েকজন ভুক্তভোগী ফিরে এসে যে বর্ণনা দিয়েছেন, সেসব তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ‘আয়নাঘরের’ কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যারিস্টার আরমান যে কক্ষে তাকে আটকে রাখার কথা জানিয়েছেন, সেটিও তদন্তকারীরা শনাক্ত করেছেন। একইভাবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে র‍্যাব-১-এর এই স্থাপনার একটি কক্ষে আটকে রাখা এবং পরে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার তথ্য প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

র‍্যাব-১-এর টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট আরেকটি কথিত গোপন আটককেন্দ্র জেআইসি পরিদর্শনের নির্দেশও ট্রাইব্যুনাল দিয়েছেন বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে আগামী শনিবার বিচারকেরা সেখানে বিচারিক পরিদর্শনে যাবেন।

বিজ্ঞাপন

আইনগত দিক তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয় এবং গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারাতেও একই ধরনের বিধান রয়েছে। তবে ‘আয়নাঘরে’ আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক ও আইনি বিধান মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, কাউকে বেআইনিভাবে দীর্ঘ সময় আটক রাখা, গুম, নির্যাতন ও হত্যার মতো অভিযোগ কেবল আইন লঙ্ঘনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়েও পড়তে পারে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে বিচার চলছে এবং আরও কয়েকটি ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে টিএফআই সেল পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম এবং গুমের মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অংশ নেন। সকাল সাড়ে ১০টার পর তারা উত্তরায় র‍্যাব-১-এর কার্যালয়ে পৌঁছান।

বিজ্ঞাপন

টিএফআই সেলে গুমের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট আসামি ১৭ জন। তাদের মধ্যে ১০ জন অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা একসময় র‍্যাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে জানা গেছে।

মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন, মো. হারুন অর রশিদ এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।

এর আগে ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ টিএফআই সেল পরিদর্শনের অনুমতি দেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD