জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জন তিন দিনের রিমান্ডে

ঢাকার ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠকের অভিযোগে জঙ্গি কার্যক্রমের সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), মো. রাস্মি মিয়া (২৯), মো. কামিছুল ইসলাম (৩৬), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মো. মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাকিব আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ প্রত্যেক আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আসামিরা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করেছেন এবং জিহাদের জন্য লোক সংগ্রহ করছেন। তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, সে বিষয়ে তথ্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসদ-উর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক তেজগাঁওয়ের কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন।
পরে ১৮ মে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী কথাবার্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন বলে তদন্ত সংস্থার অভিযোগ।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।
এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনের পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং উগ্রবাদী কার্যক্রমের অর্থের উৎস ও অর্থদাতাদের বিষয়ে তথ্য জানতে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।








