হাতকড়া আমাদের কাছে নববধূর চুড়ির মতো: কাদের সিদ্দিকী

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করার পর তাকে হাতকড়া পরানো নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার ছোট ভাই ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, এ নিয়ে কোনো কথা বলার নেই। এটা সরকার বুঝবে। আমাদের হাতে বহুবার হাতকড়া পড়েছে। আমরা খুব খারাপ কিছু মনে করি না। বিয়ের সময় মেয়ের হাতে চুড়ি যেমন দেওয়া হয়, আমরা তেমনই মনে করি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কাদের সিদ্দিকী এ মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, হাতকড়া পরানো নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত সরকারের বিষয়। তাদের পরিবারের সদস্যদের অতীতেও একাধিকবার হাতকড়া পরতে হয়েছে। তাই এটিকে তারা অসম্মানের কিছু হিসেবে দেখেন না।
বিজ্ঞাপন
কাদের সিদ্দিকীর ভাষ্য, “আমাদের হাতে বহুবার হাতকড়া পড়েছে। আমরা এটাকে খারাপ কিছু মনে করি না। বিয়ের সময় যেমন নববধূর হাতে চুড়ি পরানো হয়, হাতকড়াকেও আমরা তেমনভাবেই দেখি।”
ভাই আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন নির্দোষ মানুষকে অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আদালতে প্রত্যেক অভিযুক্তের নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের অধিকার রয়েছে। তার দাবি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীও নিজের বক্তব্য রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই সুযোগ পাননি। কাদের সিদ্দিকীর মতে, সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি প্রয়োজনীয় মর্যাদা প্রদর্শন করা উচিত।
বিজ্ঞাপন
লতিফ সিদ্দিকীর বয়সের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে তার বয়স ৮৭ বছর। যদি এমন কোনো অপরাধে—যা তিনি করেননি বলে পরিবারের দাবি—তার মৃত্যুদণ্ডও হয়, তবুও তারা সেটিকে আল্লাহর ইচ্ছা হিসেবে মেনে নেবেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনার পরিকল্পনাকারীদের একজন হিসেবে লতিফ সিদ্দিকীর নাম আসার বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী ভিন্নমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ওই সময় লতিফ সিদ্দিকী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বা ‘কিচেন কেবিনেট’-এর সদস্য ছিলেন না। তিনি তখন পাটমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এবং সেই দায়িত্বের সঙ্গে ওই ঘটনার পরিকল্পনার কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে তার দাবি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সে সময় আওয়ামী লীগ এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে লতিফ সিদ্দিকীর মতপার্থক্য ও বিতর্ক ছিল বলেও তিনি মনে করেন।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।








