Logo

শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:৩৭
শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে। মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো ডেথ রেফারেন্সের পাশাপাশি আসামির করা আপিলেরও শুনানি শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটির শুনানি শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাকে সহায়তা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।

প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়

বিজ্ঞাপন

মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখ। তিনি নিহত শিশু আছিয়ার বোনের শ্বশুর। ২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

একই মামলায় অপর তিন আসামি—আছিয়ার বোনের জামাই সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষ থেকেও আপিল করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কী ঘটেছিল শিশু আছিয়ার সঙ্গে

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু আছিয়া। সেখানে থাকাকালে সে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে মাগুরার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।

বিজ্ঞাপন

প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আছিয়াকে। পরে তাকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়।

ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হাইকোর্টে

বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থায় কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ জন্য নিম্ন আদালতের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

আছিয়া হত্যা মামলায় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সংশ্লিষ্ট নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এখন সেই ডেথ রেফারেন্সের পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আপিলের শুনানিও একসঙ্গে চলছে।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি গুরুতর ও নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য ২০২৬ সালের ১০ জুন বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

এরই ধারাবাহিকতায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স এবং আপিলের শুনানি হাইকোর্টে শুরু হলো।

এখন উচ্চ আদালতের শুনানি ও পরবর্তী আদেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল থাকবে কি না, নাকি উচ্চ আদালতে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আসবে—তা শুনানি শেষে জানা যাবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD