Logo

এমপিও শিক্ষকদের নতুন শর্তে বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্ট

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:২৯
এমপিও শিক্ষকদের নতুন শর্তে বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্ট
ছবি- জনবাণী

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সময় যে বিধিমালা কার্যকর ছিল, পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো শর্ত যুক্ত করে সেই নিয়োগের ভিত্তিতে অর্জিত আইনগত অধিকার থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বঞ্চিত করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

আদালত বলেছেন, নিয়োগের সময় প্রযোজ্য বিধিমালায় কোনো শর্ত না থাকলে পরবর্তী সময়ে চালু হওয়া নতুন বিধি বা শর্ত অতীতের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে শিক্ষক-কর্মচারীর অধিকার খর্ব করা যাবে না।

এমপিও সংক্রান্ত চার শিক্ষকের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে এ গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ‘মো. আবু হানিফ ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ মামলায় আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত ৩০ জুন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়টি দেন। এর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। রায়ের মূল অংশ লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি বিচারপতি উর্মি রহমান।

বিজ্ঞাপন

যে কারণে চার শিক্ষক আদালতে যান

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রবিধান অনুসরণ করে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজে চার শিক্ষককে প্রভাষক বা তৃতীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি ও সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রভাষক পদে মো. আবু হানিফসহ চারজন ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগ পান। পরদিন ৩০ ডিসেম্বর তারা নিজ নিজ পদে যোগদান করেন।

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ তাদের নিয়োগ ও যোগদানের সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর বিধিমালায় এনটিআরসিএ সনদ থাকার কোনো শর্ত ছিল না।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল ওই কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের এনটিআরসিএ পরিপত্রের আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ পাওয়া তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়।

এই প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রকাশিত ৭২৬ জন শিক্ষকের তালিকায় ওই চার শিক্ষকের নামও ছিল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে অনলাইনে এমপিও আবেদনের সময় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়, তাদের এনটিআরসিএ সনদ নেই।

এরপর নিজেদের এমপিও পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন চার শিক্ষক।

নিয়োগের সময়কার বিধিই প্রাধান্য পাবে

বিজ্ঞাপন

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, প্রশাসনিক প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ চাকরির বিধিমালা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে করা পরিবর্তন আগে থেকেই চাকরিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের অর্জিত অধিকার ক্ষুণ্ন করার ভিত্তি হতে পারে না।

আদালত উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে ওই চার শিক্ষক যখন নিয়োগ পেয়েছিলেন, তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় এনটিআরসিএ সনদের বাধ্যবাধকতা ছিল না।

ডিগ্রি (পাস) পর্যায়ের কলেজ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ সনদের শর্ত পরবর্তীতে ২০১৯ সালের প্রবিধানে যুক্ত হয়। ফলে পরবর্তী সময়ে চালু হওয়া ওই শর্ত ২০১৫ সালের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

‘তৃতীয় শিক্ষক’ পদ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিও গ্রহণ করেননি আদালত

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে তৃতীয় শিক্ষক পদটি জনবল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নয়—এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিল।

তবে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সরকার নিজেই বিভিন্ন সময়ে একাধিক পরিপত্রের মাধ্যমে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে ওই পদটি জনবল কাঠামোয় নেই—এমন যুক্তির আইনগত ভিত্তি নেই বলে আদালত মনে করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আদালত আরও বলেন, এমপিও দেওয়া সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত যদি কোনো যুক্তিসঙ্গত আইনি ভিত্তি ছাড়া খেয়ালখুশি বা স্বেচ্ছাচারীভাবে নেওয়া হয়, তাহলে তা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় বিচারযোগ্য হতে পারে।

চার শিক্ষককে এমপিও তালিকায় অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ

চূড়ান্ত রায়ে এনটিআরসিএ সনদ না থাকার কারণ দেখিয়ে চার প্রভাষকের এমপিও আবেদন বাতিলের অনলাইন সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ওই চার রিটকারী শিক্ষককে মান্থলি পে অর্ডার (এমপিও) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য সব বকেয়া আর্থিক সুবিধা ওই চার শিক্ষককে পরিশোধের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এ জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

হাইকোর্টের এই রায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের পর পরিবর্তিত বিধিমালা প্রয়োগ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্জিত অধিকার সীমিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD