হাইকোর্টে জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস দুটি পৃথক মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। রবিবার (২ আগস্ট) হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় এই মুহূর্তে কারামুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।
বিজ্ঞাপন
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ পুলিশকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং বিস্ফোরক দ্রব্য-সংক্রান্ত দুটি মামলায় হাইকোর্ট চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। তাঁর আইনজীবীও আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি করেন চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান। এতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলার মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অভিযোগ এবং পুলিশকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাইকোর্ট থেকে নতুন দুটি মামলায় জামিন পেলেও একটি হত্যা মামলায় এখনো তিনি জামিন লাভ করেননি। ফলে অন্যান্য মামলায় জামিনের আদেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে আপাতত চট্টগ্রাম কারাগারেই থাকতে হবে।
এর আগে কয়েক মাস আগে আরেকটি মামলায়ও হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তবে সেই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের জামিন আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। ফলে ওই মামলাতেও তাঁর মুক্তি কার্যকর হয়নি।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কারাগারের বাইরে চিকিৎসার অনুমতি মেলেনি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান হলো, কারা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তাঁর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাই বর্তমানে কারাগারের বাইরে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন নেই বলে তারা আদালতে মত দিয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত এক আইনজীবী হত্যাকাণ্ডের মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
সর্বশেষ দুটি মামলায় জামিন পাওয়ায় তাঁর আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি এলেও, বিচারাধীন অন্যান্য মামলায় জামিন না পাওয়া পর্যন্ত কারামুক্তির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।








