যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

দেশে গ্যাসের জরুরি চাহিদা পূরণে চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১২৩ কার্গো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১২ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি কেনার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জিটুজি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হবে ৬ কার্গো এলএনজি।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনা হবে। জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার যোগ করে এর মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। এসব এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জিটুজি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে তিন কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এসব এলএনজির মূল্য জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক ০৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে নির্ধারণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া ২০২৮ সালে আরও তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ১২১ শতাংশ এইচএইচ সূচকের সঙ্গে ৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার যোগ করে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে এলএনজি সংগ্রহ করে দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।








